আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

জলাতঙ্ক রোগের (Rabies) কারণ, লক্ষণ চিকিৎসা।

 

Rabies in Cattle

জলাতঙ্ক রোগ (Rabies)

জলাতঙ্ক ভাইরাস জীবাণুঘটিত একটি মারাত্মক রোগ। এটি মানুষসহ সকল প্রাণির স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ। আমাদের দেশে প্রচুর বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

রোগের কারণ:

• Rabies virus এ রোগের জন্য দায়ী।

রোগটি কিভাবে সংক্রমিত হয়ঃ

সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজী প্রভৃতি প্রাণি এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই সকল প্রাণি মানুষ ও গবাদি প্রাণিকে কামড় দিলে বা দেহের কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান আক্রান্ত প্রাণির লালার সংস্পর্শে এলে তারা জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়।

রোগের লক্ষণ:

জলাতঙ্ক রোগাগ্রস্ত প্রাণির কামড়ের পর ৭ দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। লক্ষণ গুলো নিম্নরূপ:

• প্রথম প্রথম প্রাণির অরুচি ও চলাফেরা অস্বাভাবিক দেখায়।

• প্রাণির শরীরে সামান্য জ্বর হয়।

• প্রাণির সামনে যা পাবে তা কামড়াতে চায়।

• গরু চিৎকার করে ডাকে।


• মুখে লালা ঝরে ।


• মুখের মাংসপেশী প্যারালাইসিস হওয়ায় খেতে পারে না।

• প্রাণী দীর্ঘক্ষন না খেয়ে থাকার ফলে পেটের দুই পার্শ্বে প্রায় পেটের সঙ্গে লেগে যায়।

• কান খরগোসের মত খাড়া করে।

• এ রোগে উত্তেজনা আস্তে আস্তে বাড়ে এবং যে কাউকে তেড়ে উঠে।

• গালের ২ পার্শ্বের মাংসপেশী এবং পিছনের পায়ের পক্ষাঘাত হয় এবং পক্ষাঘাত সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

• প্রাণী চলন হীন হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে এবং বার বার উঠার চেষ্টা করে কিন্তু কোমর বা মাজা উঠাতে পারে না ।

• ঘাড় মাটি থেকে উঠানোর বার বার চেষ্টা করে কিন্তু উঠাতে পারেনা ফলে শিং ভেঙ্গে যায় ও মাথা, চোখে ক্ষত হতে দেখা যায়।

• প্রাণী এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাধারণত ৪-৭ দিনের মধ্যে মারা যায়।

• উল্লেখ্য প্রাণী কিন্তু পানি খেতে আতংকগ্রস্থ হয় না মানুষের মত বরং অন্য খাবার খেতে পারে না তবে পানি একটু একটু খায়।

রোগ নির্ণয়:

উল্লেখযোগ্য লক্ষণ ও কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস জেনে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।


চিকিৎসা:

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ প্রকাশের পর কোন চিকিৎসা নেই অর্থাৎ প্রাণির ৪-৭ দিনের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত। যেহেতু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর কোন চিকিৎসা নেই।

তবে প্রাণিকে র‍্যাবিস আক্রান্ত বা বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিম্নে বর্ণিত চিকিৎসা দিতে হয়।

Rx

(১) কুকুর কামড়ানো মাত্র আক্রান্ত স্থানটি উত্তম রূপে কাপড় কাচা সাবান বা পটাসিয়াম পার-ম্যাঙ্গানেট গুঁড়া দ্বারা মুছে বা ধুয়ে দিতে হবে।

অথবা,

ক্ষত স্থানটিতে কয়েক ফোটা কার্বলিক এসিড বা ফেনল দিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে।

(২) প্রাণিকে যত দ্রুত সম্ভব নিম্নে বর্ণিত প্রতিষেধক দিতে হবে।

ক) Inj. Rabisin: বড় প্রাণির জন্য র‍্যাবসিন (Rabisin) ১০ মি.লি. ১টি ভায়াল থেকে প্রথম দিন ১ মি.লি. করে মোট ৪ মি.লি. ৪ স্থানে মাংসপেশীতে দিতে হবে। পরে বুস্টার ডোজ হিসেবে ৮ম দিনে ১ মি.লি. করে মোট ৩ মি.লি. ৩ স্থানে দিতে হবে এবং ২২তম দিনে পুনরায় ৩ মি.লি. ৩ স্থানে একই ভাবে দিতে হবে।

Rabisin Injection


প্রতিরোধ:

(ক) প্রাণীকে প্রতিষেধক হিসেবে Rabies vaccine (L.E.P) প্রয়োগ করে এ রোগের হাত হতে রক্ষা করা যায়। এছাড়া প্রাণীকে জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণী কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত স্থান কার্বলিক এসিড দ্বারা পুড়ানো এবং Post exposure ভ্যাকসিন দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

(খ) অধিকন্তু বেওয়ারিশ কুকুর এর জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং

 নিধন করেও এ রোগ অনেকাংশে দমন করা যায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post