![]() |
| Mastitis in Cow |
ওলান প্রদাহ (Mastitis)
গ্রাথির ওলানের টিস্যুর প্রদাহকে ওলানফোলা (Mastitis) রোগ বলে। লাভজনক ডেইরি খামার ও গাভী পালনের প্রধান অন্তরায় হলো ওলানফোলা রোগ। সাধারণত অধিক দুধ উৎপাদনশীল গাভী এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগের কারণে প্রাণির দুধের পরিমাণ কমে যায়, দুধ পাতলা দেখায়, দুধের রঙ পরিবর্তন হয়, জমাট বাঁধা কমে ও রক্ত মিশ্রিত দুধ দেখা যায়। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করলে চিরতরে ওলান বা বাট নষ্ট হয়ে যাওয়া এমন কি প্রাণি মারা যেতে পারে। বাট নষ্ট বা কানা হলে খামারীকে প্রাণি বিক্রয় করতে গেলে মাংসের দামে বিক্রয় করতে হয়। আমাদের দেশে অধিকাংশ লোকের ধারণা এ রোগটি মানুষের মুখ লাগা, চোখ লাগা, বাতাস লাগা থেকে হয়। ফলে প্রথমে প্রাণির মালিক কবিরাজ বা ফকিরের পানিপড়া, ঝাড়া-ফুঁক, ওলানে হলুদ বাটা ইত্যাদির আশ্রয় নেয়। এছাড়াও তাদের একটি ধারণা প্রাণিকে চিকিৎসা করালে এবং ইনজেকশন দিলে আক্রান্ত প্রাণির দুধ কমে যাবে। এ ধারণা পোষণ করে প্রাণি মালিকগণ ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হন না। কুসংস্কারের ফলে প্রাণির ওলানে প্রচুর ক্ষতিসাধন হয় এবং পরবর্তীতে ব্যয়বহুল চিকিৎসা দিয়েও ততটা সুফল পাওয়া যায় না। তবে ওলানফোলা প্রথম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করলে প্রাণির দুধ উৎপাদনের কোন ব্যাঘাত না ঘটিয়ে দ্রুত সুস্থ করা সম্ভব।
কারন (Etiology)
ওলানফোলা রোগ মূলত ২৫টি জীবাণু দ্বারা হয়ে থাকে। প্রধানত ব্যাকটেরিয়া, মাইকোপ্লাজমা, ছত্রাক, শৈবাল ইত্যাদি জীবাণু দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
• ব্যাকটেরিয়া: সেফটাইলোকক্কাস ওরিয়াস, স্ট্রেপটোকক্কাস এগ্যালেকশিয়া, স্ট্রেপ. ডিসএগ্যালেকশিয়া, স্ট্রেপ. ইউবেরিস, করাইনব্যাকটেরিয়াম বোভিস, স্টেফাইলোকক্কাস এপিডারমিডিস ইত্যাদি
• মাইকোপ্লাজমা: মাকোপ্লাজমা বোভিস, মাইকোপ্লাজমা বোভিজেনিটালিয়াম, মাইকো প্লাজমা এলকালেসেন্স ইত্যাদি।
• ছত্রাক: ট্রাইকোস্পোরন, এসপারজিলাস ফিউমিগেটাস, এসপারজিলাস নডিউলাস, ক্যান্ডিড অ্যালবিক্যান্স, ক্রিপ্টোকক্কাস নিওফরমেন্স ইত্যাদি।
• শৈবাল: প্রোটোথিকা ট্রাইফোরা এবং প্রোটোথিকা জুফফি ইত্যাদি।
সংক্রমণের উৎস (Sources of mastitis):
১. পারিপার্শ্বিক: যখন ওলান এবং বাট সংক্রমিত মেঝের সংস্পর্শে আসে।
২. আক্রান্ত ওলান: একটি বাট আক্রান্ত হওয়ার পর তা অন্যান্য বাটে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ওলানফোলা রোগের প্রকারভেদ (Classification of mastitis)
ও তীব্রতা অনুসারে এ রোগকে ৬ ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১। অতিতীব্র (Per acute)
২। তীব্র (Acute)
৩। নাতিতীব্র (Sub acute)
৪। দীর্ঘ মেয়াদী (Chronic)
৫। গ্যাংগ্রিনাস (Gangrenous) এবং
৬। সুপ্ত বা সাবক্লিনিক্যাল (Subclinical)।
লক্ষণসমূহঃ
অতিতীব্র, তীব্র রোগের ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রায় একই ধরণের হয়ে থাকে। নিম্নে অতিতীব্র ও তীব্র রোগের লক্ষণসমূহঃ
• ওলান ফুলে যাবে (চিত্র-৫৬)।
• ওলানে ব্যথা অনুভূত হয় এবং ওলানে হাত দিতে দেয় না।
• জ্বর থাকবে, যেমন- অতি তীব্র ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১০৪° হতে ১০৫° ফারেনহাইট এবং তীব্র ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১০২° হতে ১০৩° ফারেনহাইট থাকবে।
• ওলান গরম হবে।
• গাভী নিজের বাছুরকে ওলানে দুধ খেতে দিতে বাধা দেয়।
• দুধের সাথে ছানার মত জমাট বাধা দুধ দেখা যায়।
• বাঁট দিয়ে দুধের পরিবর্তে পানি, ঘোলাটে দুধ, পুঁজ বের হয়।
• যে বাঁট আক্রান্ত হয় সেই বাঁট দিয়ে শুধু পানি বের হয় অথবা রক্ত আসতে পারে।
• ওলানের অংশ বিশেষ বা বাঁট একদিকে বাঁকা হয়ে যায়।
• প্রাণির অরুচি হয়।
• ওলান ফোলার ফলে প্রাণি শুতে পারে না এবং খুড়িয়ে হাঁটে।
• এক পর্যায়ে প্রাণির ওলান শক্ত হতে থাকে।
• পরবর্তীতে ওলানে যে বাঁট আক্রান্ত সেই কোয়ার্টারে ফোড়া (Abscess) পরিলক্ষিত হয় এবং ফোড়া ফেটে যাওয়া স্থান দিয়ে মামারি টিস্যু পচে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।
• আক্রান্ত ওলানে ফোড়া ফেটে বের হয়ে যাওয়ার পর ওলান ছোট হয়ে যায়।
• আক্রান্ত বাঁট পরবর্তীতে অন্য বাঁটের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়ে আসে।
Treatment of Mastitis in cattle (Acute & subacute)
1. Antibiotic
2. Antihistamine
3. Antiinflammatory
4. Probiotics
5. Anti mastitis tube syringe etc

Post a Comment