আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

এইচএসসি কৃষিশিক্ষা ১ম পত্র - ব্যবহারিক।

এইচএসসি কৃষিশিক্ষা ১ম পত্র ব্যবহারিক

পরীক্ষা নং-০১

পরীক্ষার নাম: লিটমাস পেপারের সাহায্যে মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব চিহ্নিতকরণ।

মূলতত্ত্ব: মৃত্তিকা দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল আয়নের সাথে লিটমাস কাগজের বিক্রিয়া করে রঙ পরিবর্তন হয়ে মৃত্তিকার অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব চিহ্নিত করা যায়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১। নমুনা মাটি ২। বিকার ৩। লাল ও নীল লিটমাস কাগজ ৪। পানি ৫। কাচদণ্ড

কার্যপদ্ধতি:

১. ৫০ গ্রাম নমুনা মাটি বিকারে নিলাম।

২. বিকারের মাটিতে ১৫০ মিলি পানি নিলাম।

৩. কাঁচ দণ্ড দিয়ে বিকারের মাটি ও পানি ৩০ মিনিট নেড়ে ২০ মিনিট স্থির রাখলাম।

৪. লাল ও নীল লিটমাস পেপার ঐ মৃত্তিকা দ্রবণের ভিতরে ৩০ সেকেন্ড ডুবানোর পর লিটমাস পেপারের রঙ পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম।

পর্যবেক্ষণ:

(ক) মৃত্তিকা দ্রবণে নীল লিটমাস কাগজে লাল হয়।

(খ) মৃত্তিকা দ্রবণে লাল লিটমাস কাগজের রঙ অপরিবর্তিত রইল।

সিদ্ধান্ত: সরবরাহকৃত মাটিটি অম্লীয়।

                                           নীল লিটমাস

 

 


                   



         

                                                              চিত্র: মৃত্তিকার অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নির্ণয় পদ্ধতি।

 

পরীক্ষা নং-০২

পরীক্ষার নাম: সরবরাহকৃত মাটির বুনট শনাক্তকরণ ও বৈশিষ্ট্য লিখন।

মূলতত্ত্ব: মাটির বুনটগত ভিন্নতার জন্য মাটি বিভিন্ন রকম হয়। বিভিন্ন রকম মাটিতে বিভিন্ন রকম ফসল ভালো হয়, এজন্য মাটির বুনট শনাক্ত করা প্রয়োজন।

উপকরণ:  ১. মাটি   ২. প্লাস্টিকের পাত্র    ৩. পানি

কার্যপদ্ধতি:

১. সরবরাহকৃত এক মুঠো মাটি হাতে নিলাম।

২. মাটিতে আস্তে আস্তে পানি দিয়ে ভিজিয়ে মণ্ড তৈরি করলাম।

৩. ভেজা মাটির মণ্ড দুই হাতের তালুর সাহায্যে পিষে গোল, লম্বা, আংটি, স্তম্ভ আকৃতি তৈরির চেষ্টা করলাম।

৪. মণ্ড দিয়ে বল তৈরি করা গেল। দুই আঙুলের চাপ দিলে ফেটে যায় না। স্তম্ভ তৈরি করা হলে বাঁকানো যায় এবং রিং তৈরি করা যায়।

সিদ্ধান্ত: সরবরাহকৃত মাটিটি এঁটেল মাটি।

                                            


       

  চিত্র: সরবরাহকৃত মাটির বুনট শনাক্তকরণ

পরীক্ষা নং-০৩

পরীক্ষার নাম: বীজের বিশুদ্ধতার হার নির্ণয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:  ১। বীজের নমুনা ২। নিক্তি ও ওজন বাক্স ৩। সাদা কাগজ

কাজের ধারা:

Ø  সরবরাহকৃত বীজের ওজন করলাম ও এ বীজের ওজন হলো ১০০ গ্রাম।

Ø  সাদা কাগজ বিছিয়ে তার ওপর বীজগুলো বিছানো হলো।

Ø  বিশুদ্ধ বীজ বেছে ওজন করলাম, এ বীজের ওজন হলো ৮০ গ্রাম।

Ø  বাছাইকৃত আগাছা ও অপুষ্ট বীজের ওজন হলো ১০ গ্রাম।

Ø  জড় পদার্থের ওজন হলো ১০ গ্রাম।

গণনা:
বীজের বিশুদ্ধতার হার = (বিশুদ্ধ বীজের ওজন / মোট বীজের ওজন) × ১০০

                           = (৮০ / ১০০) × ১০০ = ৮০%



                                                            চিত্র: বীজের বিশুদ্ধতার হার নির্ণয়।

পরীক্ষা নং-০৪

পরীক্ষার নাম: দানা জাতীয় বীজ শোধন

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১। সরিষা বীজ ২। টিন বা ড্রাম ৩। ছত্রাকনাশক (ভিটাভ্যাক্স-২০০)

কাজের ধারা:

v  পাঁচ কেজি পরিষ্কার সরিষা বীজ মেপে নিলাম।

v  একটি মাঝারি আকারের ভালোভাবে মুখ আঁটে এমন টিনে ৫ কেজি বীজ ভর্তি করলাম।

v  ৫ কেজি বীজের জন্য ভিটাভ্যাক্স-২০০, ৩০ গ্রাম মেপে টিনে নিলাম (প্রতি কেজির জন্য ৬ গ্রাম হারে)।

v  তারপর ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে ছত্রাকনাশক বীজের সাথে মিশিয়ে নিলাম।

v  ঝাঁকানো বীজ ২৪ ঘণ্টা আটকানো অবস্থায় রাখলাম যাহাতে ভালোভাবে শোধিত হয়।

                  


চিত্র: বিভিন্ন ধরনের দানা জাতীয় বীজ শোধন পদ্ধতি (১. কৌটা, ২. রোটারি ড্রাম, ৩. কাপড়ের পোটলায় বীজ)

পরীক্ষা নং-০৫

পরীক্ষার নাম: ঘরের ভিতরে মাশরুম চাষ পদ্ধতি।

মূলতত্ত্ব: মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক, যা অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ সবজি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। ওয়েস্টার মাশরুম চাষে ২০-৩০° সে. তাপমাত্রা সংরক্ষণ করা হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১. ব্লেড, ২. প্লাস্টিক গামলা, ৩. ছোট চা চামচ, ৪. লম্বা পলিথিন (কিছু অংশ পাঞ্চিং করা), ৫. পানি ছিটানোর জন্য হ্যান্ড স্প্রে, ৬. ছুরি, ৭. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য হাইড্রোমিটার।

কাজের ধাপ:

Ø  স্পন বা মাশরুমের বীজ প্যাকেট মাশরুম কালচার সেন্টার হতে সংগ্রহ করলাম।

Ø  প্যাকেটের দুই পাশে ব্লেড দিয়ে উল্টো 'D' আকৃতি বা চোখ আকৃতির মতো ৩-৪ সে.মি. পলিথিন কেটে তুলে ফেললাম।

Ø  কাটা অংশে চামচ দিয়ে ১ সে.মি. গভীর করে চেঁছে ফেলে একটি গামলায় পরিষ্কার পানিতে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখলাম।

Ø  তাপমাত্রা ২০°-৩২° সে. ও আর্দ্রতা ৮০%-৯০% নিয়ন্ত্রণ রাখলাম।

Ø  চাষঘরে প্যাকেট রাখার ৭-৯ দিনের মধ্যে মাশরুম তোলার উপযোগী হল।



                                                                    চিত্র: মাশরুম

পরীক্ষা নং-০৬

পরীক্ষার নাম: সুস্থ বীজ বাছাই (অপুষ্ট বীজ, রং বদল, রোগাক্রান্ত বীজ)

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

(ক) যেকোনো দানা বীজ

(খ) পান

(গ) বালতি

(ঘ) ইউরিয়া সার

(ঙ) একটি চালনি  

(চ) একটি নাড়ন কাঠি

কাজের ধাপ:

ü  ২০ লিটার পরিমাণ পানি ধরে এমন একটি বালতিতে ১৩-১৪ লিটার পরিষ্কার পানি নিলাম।

ü  আধা কেজি (৫০০ গ্রাম) ইউরিয়া মেপে বালতির পানিতে মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করলাম।

ü  মুরগির একটি ভালো ডিম বালতির ইউরিয়া দ্রবণের মধ্যে ছেড়ে দিলাম।

ü  ডিমটি খাড়া অবস্থায় পানির উপর না ভাসা পর্যন্ত বালতির পানিতে অল্প অল্প করে ইউরিয়া ঢালতে থাকলাম (দ্রবণের ঘনত্ব রাখলাম ৩.৫-৫০%)।

ü  পরিমাপকৃত বীজগুলো ইউরিয়া মিশ্রিত পানিতে ছেড়ে দিলাম এবং কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলাম।

ü  ভারী ও পুষ্ট বীজগুলো ইউরিয়া মিশ্রিত পানিতে ডুবে গেল, আর অপুষ্ট ও চিটাবীজগুলো ভেসে উঠল যা চালনি দিয়ে তুলে ফেললাম।

 



                                                  চিত্র: বীজ বাছাই পরীক্ষা ও বীজ ভর্তি বস্তা

 

 

Eidited By: কৃষিবিদ ডা. মো. আব্দুল্লাহ ফারাজী

প্রভাষক

                   ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

ইতনা, লোহাগড়া, নড়াইল।

                                                                                     মোবাইল: ০১৭৯৯৩৫৩৭৪০, ০১৮৩৪৫৪৮৮৩২। 

Post a Comment

Previous Post Next Post