আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

DHMS মেটেরিয়া মেডিকা প্রথম বর্ষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর।

ম্যাটেরিয়া মেডিকা সম্পূর্ণ গাইড - DHMS 1st Year

হোমিওপ্যাথিক ডিএইচএমএস (DHMS) কোর্স - প্রথম বর্ষ

১ম বিষয়: ম্যাটেরিয়া মেডিকা (Materia Medica) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরমালা

বিভাগ ক: রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান: ৫)

১. হোমিওপ্যাথি ওষুধের উৎসগুলো বর্ণনা কর।

হোমিওপ্যাথিক ম্যাটেরিয়া মেডিকায় ওষুধের উৎস মূলত প্রকৃতি। মহাত্মা হ্যানিম্যান প্রধানত ৭টি উৎস থেকে ওষুধ প্রস্তুতের নিয়ম প্রবর্তন করেছেন:

  • উদ্ভিজ্জ উৎস (Vegetable Kingdom): গাছের পাতা, ফুল, মূল বা ছাল থেকে তৈরি। যেমন: Bryonia Alba, Thuja Occidentalis
  • প্রাণীজ উৎস (Animal Kingdom): জীবন্ত বা মৃত প্রাণী, প্রাণীর অংশ বা বিষ থেকে তৈরি। 如: Apis Mellifica, Lachesis
  • খনিজ উৎস (Mineral Kingdom): বিভিন্ন ধাতু, অধাতু ও রাসায়নিক যৌগ থেকে তৈরি। যেমন: Sulphur, Calcarea Carbonica
  • নসড বা রোগজ উৎস (Nosodes): রোগাক্রান্ত দেহ বা নিঃসৃত পদার্থ থেকে রোগজীবাণু মুক্ত করে তৈরি। যেমন: Psorinum, Medorrhinum
  • সারকোড বা সুস্থ অঙ্গজ উৎস (Sarcodes): সুস্থ প্রাণীর জীবন্ত অন্তক্ষরা গ্রন্থি বা নিঃসৃত রস থেকে তৈরি। যেমন: Thyroidinum
  • ইমপন্ডারেবিলিয়া (Imponderabilia): প্রাকৃতিক বা অদৃশ্য শক্তিকে যুক্ত করে তৈরি। যেমন: Magnetis Poli Ambo, X-Ray
  • সিন্থেটিক উৎস (Synthetic Source): আধুনিক কিছু রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান থেকে তৈরি। যেমন: Penicillinum

২. ম্যাটেরিয়া মেডিকার পরিধি সম্পর্কে আলোচনা কর।

ম্যাটেরিয়া মেডিকা শব্দের অর্থ "ওষুধের ভাণ্ডার"। যে চিকিৎসা শাস্ত্রে ওষুধের উৎস, পরিচয়, গুণাগুণ, সুস্থ মানবদেহে প্রুভিং-এর লক্ষণ এবং রোগ আরোগ্যের ক্ষমতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়, তাকে ম্যাটেরিয়া মেডিকা বলে। এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক:

  • লক্ষণ বিজ্ঞানের বিশালতা: এটি মানুষের মানসিক, শারীরিক, সাধারণ এবং ধাতুগত লক্ষণসহ হাজার হাজার সূক্ষ্ম লক্ষণের এক বিশাল মহাসমুদ্র।
  • ওষুধ প্রুভিং-এর সত্যতা: সুস্থ মানবদেহে ওষুধের পরীক্ষালব্ধ বাস্তব লক্ষণ এতে লিপিবদ্ধ থাকে বলে এর পরিধি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত ও অপরিবর্তনীয়।
  • উৎস ও বৈচিত্র্য: ক্ষুদ্র উদ্ভিজ্জ কণা থেকে শুরু করে মহাজাগতিক এক্স-রে বা বিষাক্ত সাপের বিষ পর্যন্ত সমস্ত উপাদান হোমিওপ্যাথিক শক্তিকরণের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের পরিধিভুক্ত হয়েছে।
  • সদৃশ আরোগ্য ক্ষমতা: যেকোনো নতুন আবিষ্কৃত রোগ হোক না কেন, লক্ষণের মিল পাওয়া গেলে ম্যাটেরিয়া মেডিকার ওষুধ তা আরোগ্য করতে সক্ষম।

৩. উদ্ভিজ্জ উৎসের যে কোনো ১০টি হোমিওপ্যাথি ওষুধের পূর্ণ নাম লেখ।

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রস্তুতকৃত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের পূর্ণ নাম ও উৎস নিচে টেবিলে দেওয়া হলো:

ক্রমিক ওষুধের পূর্ণ নাম (Full Name) সাধারণ নাম/উৎস অংশ
Aconitum NapellusMonkshood (সমগ্র উদ্ভিদ)
Bryonia AlbaWhite Bryony (মূল)
Cinchona Officinalis / ChinaPeruvian Bark (কুইনাইন গাছের ছাল)
IpecacuanhaIpecac Root (মূল)
Thuja OccidentalisArbor Vitae (পাতা ও কচি ডাল)
Arnica MontanaLeopard's Bane (মূল ও ফুল)
Pulsatilla NigricansWind Flower (সমগ্র উদ্ভিদ)
BelladonnaDeadly Nightshade (সমগ্র উদ্ভিদ)
Cina MaritimaWormseed (ফুল)
১০Podophyllum PeltatumMay Apple (মূল)

৪. ব্রায়োনিয়া (Bryonia Alba) ও রাসটক্স (Rhus Tox)-এর তুলনামূলক আলোচনা কর এবং ব্রায়োনিয়ার প্রোভাকের নাম লেখ।

প্রোভাক (Prover): ব্রায়োনিয়া ওষধিটি মহাত্মা ড. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান নিজে সুস্থ মানবদেহে প্রুভ করেছেন।

নিচে ব্রায়োনিয়া ও রাসটক্সের প্রধান নির্দেশক লক্ষণসমূহের তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:

লক্ষণ/বিষয় ব্রায়োনিয়া (Bryonia) রাসটক্স (Rhus Tox)
হ্রাস-বৃদ্ধি সামান্য নড়াচড়া বা সঞ্চালনে রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়। সম্পূর্ণ বিশ্রামে আরাম বোধ করে। বিশ্রামে বা প্রথম নড়াচড়ায় রোগ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্রমাগত হাঁটাচলা করলে কষ্ট কমে।
পিপাসা প্রচণ্ড পিপাসা। দীর্ঘ সময় পর পর একসাথে প্রচুর পরিমাণে ঠাণ্ডা জল পান করে। পিপাসা আছে, তবে অল্প অল্প করে বারবার জল পান করার প্রবণতা দেখা যায়।
মানসিক অবস্থা অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজ। সারাক্ষণ বাড়ি যাওয়ার কথা বলে এবং ব্যবসার চিন্তা করে। শারীরিক কষ্টের কারণে অত্যন্ত অস্থির। এক স্থানে স্থির থাকতে পারে না, অনবরত স্থান পরিবর্তন করে।
জিহ্বা জিহ্বা শুষ্ক এবং তার ওপর সাদা বা হলদেটে রঙের মোটা প্রলেপ থাকে। জিহ্বা শুষ্ক, তবে অগ্রভাগে একটি স্পষ্ট লাল ত্রিকোণ চিহ্নিত (Triangular red tip) দাগ থাকে।

অনুপূরক ও পরিপূরক ওষুধ: ব্রায়োনিয়ার অনুপূরক ওষুধ হলো Alumina, Rhus Tox

৫. শিশু উদারাময়ে ইথুজা (Aethusa Cynapium)-এর লক্ষণ, উৎস ও হ্রাস-বৃদ্ধি লেখ।

উৎস: এটি একটি উদ্ভিজ্জ ওষুধ, যা বুনো ধনে পাতা (Fools Parsley) থেকে তৈরি হয়।

শিশুর উদারাময় ও বমির লক্ষণ:

  • দুধ সহ্য না হওয়া: শিশু কোনোভাবেই দুধ সহ্য করতে পারে না। দুধ পান করার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা তীব্র বেগে বমি করে উগরে দেয়।
  • দইয়ের মতো বমি: বমি করা দুধ চ চাপ বা ছানা কাটা দইয়ের মতো শক্ত ও টক গন্ধযুক্ত হয়।
  • বমি ও মলের পর অবসন্নতা: বমি বা মলত্যাগের পর শিশু প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে। কিন্তু জেগে উঠলেই আবার ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে।
  • মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি: শিশুর চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়ে, নাক ও মুখের রেখায় একটি তীব্র যন্ত্রণার ছাপ (Lineae nasalis) ফুটে ওঠে।

হ্রাস-বৃদ্ধি: দুধ পানে, গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এবং শিশুদের দাঁত ওঠার সময় রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়। ঠাণ্ডা বাতাসে ও বিশ্রামে উপশম হয়।

৬. শ্বাসতন্ত্রের পীড়ায় ইপিকাক (Ipecac) ও এন্টিম টার্ট (Antim Tart) এর তুলনা কর।

শ্বাসনালীর প্রদাহ, কাশি বা হাঁপানিতে ইপিকাক ও এন্টিম টার্টের পার্থক্য নিচে ছকের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলো:

লক্ষণ ইপিকাক (Ipecac) এন্টিম টার্ট (Antim Tart)
বমি বমি ভাব সর্বাবস্থায় প্রবল এবং অনবরত বমি বমি ভাব থাকে। বমি করলেও এই ভাবের উপশম হয় না। বমি বমি ভাব থাকে, তবে বমি হয়ে গেলে রোগী কিছুটা আরাম বা উপশম বোধ করে।
কাশির শব্দ ও কফ কাশি দমকা আকারে আসে। বুকে কফের ঘড়ঘড় শব্দ কম থাকে, কফ তুলতে কষ্ট হয়। বুকে প্রচুর কф জমে থাকে এবং ঘড়ঘড় শব্দ হয়। মনে হয় অনেক কফ উঠবে, কিন্তু সামান্যই ওঠে।
পিপাসা ও জিহ্বা রোগী সম্পূর্ণ পিপাসাহীন। জিহ্বা সর্বদা পরিষ্কার ও লালাযুক্ত থাকে। পিপাসাহীন বা অল্প পিপাসা। জিহ্বায় ঘন সাদা মাখনের মতো প্রলেপ থাকে।
রোগীর অবস্থা রোগী খিটখিটে ও রাগী হয়। শ্বাসকষ্টের সময় শরীর শক্ত হয়ে যায়। রোগী অত্যন্ত দুর্বল, তন্দ্রাচ্ছন্ন (Drowsy) এবং মুখমণ্ডল নীলচে ভাব ধারণ করে।

৭. আঘাতজনিত পীড়ায় আর্নিকা মন্টানা (Arnica Montana) এর ব্যবহার লিখ।

হোমিওপ্যাথিতে যান্ত্রিক আঘাতের ক্ষেত্রে আর্নিকা মন্টানা প্রধান ওষুধ। এর ৫টি ব্যবহার নিম্নরূপ:

  • থেঁতলে যাওয়া আঘাত: পড়ে গিয়ে বা লাঠির আঘাতে শরীরের কোনো অংশ থেঁতলে গেলে এবং চামড়ার নিচে রক্ত জমে নীল বর্ণ ধারণ করলে আর্নিকা দ্রুত রক্ত শোষণ করতে সাহায্য করে।
  • মাংসপেশির ব্যথা: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা দূরপাল্লার হাঁটার পর মাংসপেশিতে যে তীব্র ব্যথা ও কামড়ানি অনুভূত হয়, তাতে এটি চমৎকার কাজ করে।
  • শয্যাক্ষত ও মচকানো: দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকার কারণে পিঠে ক্ষত (Bed sores) হলে অথবা পা মচকে গেলে আর্নিকা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়।
  • মানসিক অনুভূতি: আঘাতের পর রোগী বিছানা শক্ত মনে করে এবং কেউ তার দিকে এগিয়ে এলে ব্যথার ভয়ে তাকে স্পর্শ করতে নিষেধ করে।

৮. পরিপাকতন্ত্র ও দুর্বলতায় চায়না (Cinchona / China) এর প্রয়োগক্ষেত্র ও লক্ষণ লেখ।

দুর্বলতায় চায়না: শরীরের অত্যাবশ্যকীয় তরল পদার্থ (Vital fluids) যেমন—রক্তস্রাব, অতিরিক্ত ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যে চরম দুর্বলতা ও রক্তশূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করতে চায়না একটি মহৌষধ।

পরিপাকতন্ত্রের লক্ষণ:

  • পেট ফাঁপা (Flatulence): সম্পূর্ণ পেট গ্যাসে ভর্তি হয়ে ঢোলের মতো ফুলে থাকে। কিন্তু ডেকুর উঠলে বা বায়ু নিঃসরণ হলেও রোগী কোনো আরাম বোধ করে না।
  • খাদ্য পরিপাক না হওয়া: রোগী যা খায় তা হজম হয় না। মল টক দুর্গন্ধযুক্ত এবং মুলের সাথে অজীর্ণ খাদ্যের অংশ নির্গত হয়।
  • ফল খাওয়ার পর বৃদ্ধি: বিশেষ করে কাঁচা ফলমূল খাওয়ার পর পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়।

৯. উদারাময়ে পডোফাইলাম (Podophyllum) ও ক্রোটন টিগ (Croton Tig) এর তুলনা এবং পডোফাইলামের প্রোভাকের নাম লেখ।

প্রোভাক: পডোফাইলাম ওষধিটি ড. জেনিংস (Dr. Jeanes) সুস্থ মানবদেহে প্রুভ করেন।

গ্রীষ্মকালীন ডায়রিয়া বা উদারাময়ে পডোফাইলাম ও ক্রোটন টিগের পার্থক্য নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:

লক্ষণ পডোফাইলাম (Podophyllum) ক্রোটন টিগ (Croton Tig)
মলের প্রকৃতি ও বেগ মল প্রচুর পরিমাণে, জলের মতো এবং প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত হয়। মলত্যাগের সময় কোনো ব্যথা থাকে না, তবে মল একবারে হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসে। খাওয়ার বা পান করার পরপরই হঠাৎ তীব্র বেগে মল আসে। মলটি যেন বন্দুকের গুলির মতো সশব্দে ও এক ঝাঁকে পিচকারির মতো নির্গত হয়।
হ্রাস-বৃদ্ধি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মলের বেগ বেশি থাকে। গরম আবহাওয়া এবং দাঁত ওঠার সময় শিশুদের বৃদ্ধি ঘটে। সামান্য কিছু আহার করলে বা জল পান করলেই সাথে সাথে পায়খানার বেগ আসে। নড়াচড়াতেও রোগ বাড়ে।
আনুষঙ্গিক লক্ষণ মলত্যাগের পর মলদ্বার ঝুলে পড়ে (Prolapsus ani)। শিশু ঘুমের ঘোরে মাথা এপাশ-ওপাশ নাড়ায় এবং দাঁত কিড়মিড় করে। মলত্যাগের সময় পেটের ভেতর গড়গড় শব্দ হয় এবং স্তনবৃন্ত থেকে পিঠ পর্যন্ত তীব্র টানধরা ব্যথা অনুভুত হয়।

১০. বেলেডোনা (Belladonna) ও গ্লনইন (Glonoine) ওষুধের নির্দেশক লক্ষণসমূহ লেখ।

বেলেডোনার নির্দেশক লক্ষণ: রোগ হঠাৎ আসে এবং হঠাৎ চলে যায়। আক্রান্ত স্থান লাল, গরম এবং স্ফীত হয়ে ওঠে। চোখ-মুখ লাল বর্ণ ধারণ করে এবং ধমনী দপদপ (Throbbing) করে। রোগী সামান্য আলো, শব্দ বা বিছানার ঝাঁকুনিও সহ্য করতে পারে না।

গ্লনইনের নির্দেশক লক্ষণ: রৌদ্রে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরম লাগার কারণে সৃষ্ট তীব্র মাথা ব্যথায় গ্লনইন অব্যর্থ। মাথার ভেতর রক্তাধিক্যের কারণে ধমনীগুলো দপদপ করতে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেশি বেড়ে গেলে এবং বুক ধড়ফড় করে মুখমণ্ডল লাল হয়ে উঠলে এটি ব্যবহৃত হয়।

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও টীকা (মান: ৫ উপযোগী)
প্রশ্ন / টীকা পরীক্ষার উপযোগী সম্পূর্ণ নির্ভুল উত্তরমালা
১. শীতকালিন বা শীতকাতর ৩টি ওষুধ হোমিওপ্যাথিতে যেসব রোগী ঠাণ্ডা বাতাস, ঠাণ্ডা আবহাওয়া বা শীত একদম সহ্য করতে পারে না, সামান্য ঠাণ্ডাতেই রোগ বৃদ্ধি পায় তাদের শীতকাতর বলা হয়। ৩টি শীতকাতর ওষুধ হলো:
১. Psorinum (সোরিনাম)
২. Silicea (সিলিকা)
৩. Hepar Sulphur (হেপার সালফ)।
২. একোনাইট (Aconite)-এর মানসিক লক্ষণ একোনাইটের প্রধানতম চাবিকাঠি লক্ষণ হলো মৃত্যুভয়। রোগী তার মৃত্যুর দিন ও সময় পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে। এছাড়া তীব্র মানসিক অস্থিরতা, ছটফটানি, অহেতুক ভয় এবং যেকোনো নতুন বা তীব্র রোগে ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করা এর অন্যতম মানসিক বৈশিষ্ট্য।
৩. বাত ব্যথায় আর্নিকা (Arnica) বাত ব্যথার ক্ষেত্রে আর্নিকার প্রধান লক্ষণ হলো আক্রান্ত স্থানে তীব্র থেঁতলে যাওয়ার মতো অনুভূতি (Bruised feeling)। রোগী সমস্ত শরীর বা আক্রান্ত অংশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মনে করে। রোগী বিছানা শক্ত মনে করে এবং ব্যথার তীব্রতার কারণে কেউ তার দিকে এগিয়ে এলে ব্যথার ভয়ে তাকে স্পর্শ করতে নিষেধ করে।
৪. ক্যামোমিলা (Chamomilla) শিশু চরিত্র ক্যামোমিলার শিশু অত্যন্ত খিটখিটে, অবাধ্য, একগুঁয়ে এবং ক্রন্দনশীল। সে কোনোভাবেই শান্ত হতে চায় না। একমাত্র কোলে নিয়ে হাঁটাচলা করলে সে কিছুটা শান্ত থাকে। কোনো খেলনা বা জিনিস চাইলে তা দেওয়ার পর অবজ্ঞার সাথে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। একটি গাল লাল এবং অন্য গাল ফ্যাকাশে দেখায়।
৫. আমাশয়ে মার্ক কর (Mercurius Corrosivus) তীব্র আমাশয় বা রক্ত আমাশয়ের জন্য মার্ক কর একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ওষুধ। এর প্রধান লক্ষণ হলো মলত্যাগের আগে, মলত্যাগের সময় এবং মলত্যাগের পরেও অনবরত মলবেগ ও তীব্র যন্ত্রণাদায়ক কোঁথানী (Tenesmus) থাকে। মলের সাথে প্রচুর পিচ্ছিল আম, শ্লেষ্মা এবং রক্ত নির্গত হয়।
৬. ধাতুগত লক্ষণ (Constitutional Symptoms) রোগীর বংশগত ইতিহাস, শারীরিক গঠন, মানসিক প্রবণতা, ঠাণ্ডা-গরমের সংবেদনশীলতা (কাতরতা) এবং জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে যে সামগ্রিক লক্ষণ চিত্র পাওয়া যায়, তাকে ধাতুগত লক্ষণ বলে। ক্রনিক বা চিররোগের ক্ষেত্রে সদৃশ ও স্থায়ী আরোগ্যের জন্য ধাতুগত লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৭. বিরল লক্ষণ (Rare / Uncommon Symptoms) যেসব লক্ষণ সাধারণ রোগের স্বাভাবিক প্যাথলজির সাথে মেলে না, বরং সম্পূর্ণ অদ্ভুত ও বিপরীতধর্মী হয়, তাকে বিরল বা অদ্ভুত লক্ষণ বলে। যেমন: জিহ্বা সর্বদা ভেজা বা লালাযুক্ত কিন্তু রোগীর প্রচণ্ড পিপাসা (ওষুধ: Mercurius Solubilis)। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচনে এর মূল্য সবচেয়ে বেশি।
৮. কৃমিতে সিনা (Cina) শিশুর লক্ষণ সিনার শিশু অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজের হয়, অনবরত নখ দিয়ে নাক চুলকায় বা ঘষতে থাকে। শিশুর প্রচণ্ড ক্ষুধা থাকে কিন্তু খাওয়ার পরও শরীর শুকিয়ে যায়, মিষ্টি জিনিসের প্রতি তীব্র লোভ থাকে। শিশু পেটের ওপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে ঘুমায় এবং ঘুমের ঘোরে দাঁত কিড়মিড় করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post