আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

মেটারিয়া মেডিকা: DHMS প্রথম বর্ষ- ২০২০ সালের প্রশ্ন ও উত্তর।

ডিএইচএমএস ১ম বর্ষ - মেটেরিয়া মেডিকা প্রশ্নোত্তর

ডিএইচএমএস (DHMS) ১ম বর্ষ পরীক্ষা
বিষয়: মেটেরিয়া মেডিকা (৫ নম্বরের উপযোগী প্রশ্নোত্তর)

১। ক) জ্বরে ব্রায়োনিয়ার লক্ষণাবলি লিখ।

উত্তর: হোমিওপ্যাথিতে জ্বর চিকিৎসায় ব্রায়োনিয়া অ্যালবা (Bryonia Alba) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। জ্বরে ব্রায়োনিয়ার প্রধান লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • নড়াচড়ায় বৃদ্ধি: রোগীর সমস্ত কষ্ট সামান্য নড়াচড়া করলেই বৃদ্ধি পায়। তাই রোগী সম্পূর্ণ স্থির বা নিথর হয়ে শুয়ে থাকতে পছন্দ করে।
  • প্রবল পিপাসা: রোগীর প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা পানি পানের পিপাসা থাকে এবং সে দীর্ঘ সময় পর পর একসাথে অনেকখানি পানি পান করে.
  • অতিরিক্ত শুষ্কতা: শরীরের সমস্ত মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মাঝিল্লি শুকিয়ে যায়। ঠোঁট, মুখ ও জিব অত্যন্ত শুষ্ক থাকে।
  • প্রলাপ বকা: তীব্র জ্বরের ঘোরে রোগী ঘরের কাজের কথা বা ব্যবসার কথা বলে প্রলাপ বকতে থাকে এবং বাড়ি যাওয়ার আকুলতা প্রকাশ করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: জ্বরের সাথে সাধারণত তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। মল অত্যন্ত শক্ত, শুষ্ক এবং পুড়ে যাওয়ার মতো কালো রঙের দেখায়।
১। খ) ) শ্বাসতন্ত্রে ব্রায়োনিয়ার ব্যবহার উল্লেখ কর।

উত্তর: শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন পীড়ায় ব্রায়োনিয়া অত্যন্ত কার্যকরী। এর প্রধান ব্যবহারিক ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপ:

  • শুষ্ক ও শক্ত কাশি: ব্রায়োনিয়ার কাশি সাধারণত অত্যন্ত শুষ্ক, খটখটে এবং কষ্টদায়ক হয়। কাশির সময় কফ সহজে উঠতে চায় না।
  • বুকের ব্যথা: কাশির সময় রোগী বুকে তীব্র সূঁচ ফোটার মতো ব্যথা (Stitching pain) অনুভব করে। ব্যথার কারণে রোগী কাশির সময় হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে রাখে।
  • প্লুরিসি ও নিউমোনিয়া: ফুসফুসের প্রদাহ বা প্লুরিসিতে এটি অত্যন্ত উপকারী। বুক ভরে শ্বাস নিতে রোগীর কষ্ট হয় এবং ডান দিকে চেপে শুলে কিছুটা আরাম বোধ করে।
  • উষ্ণ ঘরে বৃদ্ধি: ঠান্ডা বাতাস থেকে হঠাৎ উষ্ণ ঘরে প্রবেশ করলে রোগীর কাশির বেগ বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
১। গ) ব্রায়োনিয়া, রাসটক্স ও এন্টিম ক্রুডের জিহ্বার লক্ষণের তুলনা কর।

উত্তর: মেটেরিয়া মেডিকায় রোগীর জিব দেখে ওষুধ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এই তিনটি ওষুধের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

ওষুধ জিহ্বার প্রধান লক্ষণ
ব্রায়োনিয়া (Bryonia) জিব অত্যন্ত শুষ্ক, রুক্ষ এবং সাদা বা হলদেটে রঙের মোটা প্রলেপযুক্ত থাকে। রোগীর মুখ ও লালা শুকিয়ে যায়।
রাসটক্স (Rhus Tox) জিবের অগ্রভাগ বা ডগা তীর চিহ্নের মতো লাল (Triangular red tip) দেখায়। জিব শুষ্ক থাকে এবং দাঁতের ছাপ থাকতে পারে।
এнтиম ক্রুড (Antim Crud) জিবের ওপর দুধের মতো ঘন সাদা স্তরের প্রলেপ (Milky white coat) থাকে। এটি এই ওষুধের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চরিত্রগত লক্ষণ।

২। ক) চায়নার ক্রিয়াস্থল উল্লেখ কর। দুর্বলতায় ইহার ব্যবহার লিখ।

উত্তর:

চায়নার ক্রিয়াস্থল: চায়না (China Officinalis) প্রধানত রক্ত ও পরিপাকতন্ত্রের ওপর কাজ করে। এ ছাড়া যকৃৎ (Liver), প্লীহা (Spleen), স্নায়ুমন্ডলী এবং শরীরের তরল পদার্থের (Vital fluids) ওপর এর প্রধান ক্রিয়াস্থল।

দুর্বলতায় চায়নার ব্যবহার:

  • ধাতুক্ষয়জনিত দুর্বলতা: শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে অত্যাবশ্যকীয় তরল পদার্থ যেমন—রক্তপাত, অতিরিক্ত বীর্যক্ষয়, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বা অতিরিক্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে চায়না প্রথম সারির ওষুধ।
  • লক্ষণসমূহ: রোগী অত্যন্ত অবসন্ন বোধ করে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়, কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ হয় এবং সামান্য পরিশ্রমে কপালে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়। এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা দূর করতে চায়না জাদুর মতো কাজ করে।
২। খ) পরিপাকতন্ত্রে চায়নার লক্ষণসমূহ লিখ।

উত্তর: পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগে চায়নার নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন লক্ষণ রয়েছে:

  • পেট ফাঁপা ও গ্যাস: সম্পূর্ণ পেট গ্যাসে ভর্তি হয়ে ঢোলের মতো ফুলে থাকে।
  • ঢেকুর তুললেও আরাম নেই: বায়ু বা ঢেকুর ত্যাগ করলেও পেটের কোনো উপশম বা হালকা বোধ হয় না।
  • খাদ্য হজম না হওয়া: অজীর্ণ ডায়রিয়া দেখা দেয়, অর্থাৎ মলের সাথে অপাচিত খাদ্যকণা নির্গত হয়। মল সাধারণত রাতে বেশি হয়।
  • ফল খাওয়ার পর বৃদ্ধি: ফলমূল বা টক জাতীয় জিনিস খাওয়ার পর পেটের অসুখ ও আমাশয় বৃদ্ধি পায়।
২। গ) রক্তস্রাবে চায়নার প্রয়োগক্ষেত্র লিখ।

উত্তর: শরীর থেকে যে কোনো উপায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সৃষ্ট জটিলতায় চায়না ব্যবহৃত হয়:

  • প্রয়োগক্ষেত্র: নাক, মুখ, ফুসফুস, জরায়ু বা মলদ্বার থেকে দীর্ঘক্ষণ রক্তপাতের পর যখন রোগী রক্তশূন্য হয়ে পড়ে, তখন চায়না দেওয়া হয়।
  • শারীরিক অবস্থা: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে ও নীলচে হয়ে যায়, চোখ বসে যায়, মাথা ঘোরে এবং রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়। চায়না এই ক্ষয় পূরণ করে জীবনীশক্তি ফিরিয়ে আনে।

৩। ক) বমিতে ইপিকাকের লক্ষণাবলি লিখ।

উত্তর: ইপিকাক (Ipecacuanha) ওষুধের মূল কথাই হলো বমি বমি ভাব। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • নিরবচ্ছিন্ন বমি ভাব: রোগীর অনবরত বমি বমি ভাব (Persistent nausea) থাকে। বমি হওয়ার পরেও এই ভাবের কোনো উপশম বা শান্তি মেলে না।
  • পরিষ্কার জিহ্বা: তীব্র বমি ও পেটের গোলযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীর জিব সম্পূর্ণ পরিষ্কার, লালচে এবং লালাযুক্ত থাকে (কোনো প্রলেপ থাকে না)।
  • পিপাসাহীনতা: বমি ও লালা নিঃসরণ হওয়া সত্ত্বেও রোগীর কোনো পানির পিপাসা থাকে না।
  • বমির প্রকৃতি: বমিতে সাধারণত শ্লেষ্মা, পিত্ত বা টক এবং অজীর্ণ খাদ্যদ্রব্য নির্গত হয়।
৩। খ) শ্বাসতন্ত্রে এন্টিম টাার্টের ব্যবহার উল্লেখ কর।

উত্তর: এন্টিম টার্ট (Antim Tart) শ্বাসযন্ত্রের অত্যন্ত জটিল অবস্থায় ব্যবহৃত হয়:

  • বুকে কফের ঘড়ঘড়ানি: রোগীর শ্বাসনালী ও ফুসফুসে প্রচুর কফ জমা হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে স্পষ্ট ঘড়ঘড় (Rattling) শব্দ শোনা যায়।
  • কফ তুলতে অক্ষমতা: বুকে এত কফ থাকা সত্ত্বেও রোগী কাশির সময় সামান্য কফও বাইরে বের করতে পারে না।
  • দমবন্ধ ভাব ও নীলচে রঙ: কফ না ওঠার কারণে রোগীর দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়, মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে বা নীলচে (Cyanosis) হয়ে যায়। কফ তোলার জন্য রোগী সোজা হয়ে বসতে বাধ্য হয়।
৩। গ) এন্টিম টার্ট, ইপিকাক ও নাক্স ভমের জিহ্বার লক্ষণের তুলনা কর।

উত্তর: রোগী চেনার সুবিধার্থে এই তিনটি ওষুধের জিবের তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

ওষুধ জিহ্বার লক্ষণ
এнтиম টার্ট (Antim Tart) জিব মোটা সাদা প্রলেপযুক্ত থাকে এবং জিবের ধার বা কিনারা লালচে বর্ণের দেখায়।
ইপিকাক (Ipecac) তীব্র বমি ভাব থাকা সত্ত্বেও জিব সবসময় সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং লাল থাকে, কোনো প্রলেপ থাকে না।
নাক্স ভমিকা (Nux Vomica) জিবের পেছনের অংশ বা অর্ধেক অংশ ঘন হলদে-সاده প্রলেপে ঢাকা থাকে, তবে সামনের অংশ পরিষ্কার থাকতে পারে।

৪। ক) ক্যামোমিলার শিশুচিত্র অঙ্কন কর।

উত্তর: ক্যামোমিলা (Chamomilla) এর শিশুমানস অত্যন্ত উগ্র এবং মেজাজি। এর শিশুচিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • অত্যಂತ খিটখিটে মেজাজ: ক্যামোমিলার শিশু অত্যন্ত ক্রোধী, একগুঁয়ে এবং অশান্ত প্রকৃতির হয়। সে সারাক্ষণ কান্নাকাটি ও ঘ্যানঘ্যান করে।
  • কোলে চড়ার প্রবণতা: শিশুটি কেবল তখনই শান্ত হয় যখন তাকে কোলে নিয়ে ঘরের মধ্যে বা বাইরে হাঁটাচলা করা হয়। কোলে থেকে নামালেই সে আবার চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে।
  • জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলা: শিশু কোনো খেলনা বা জিনিস চাইলে তা দেওয়ার পর সে রাগে সেটি ছুড়ে ফেলে দেয়। সান্ত্বনা দিলে তার রাগ আরও বেড়ে যায়।
  • শারীরিক লক্ষণ: রাগের সময় শিশুর একটি গাল লাল এবং অন্য গালটি ফ্যাকাশে দেখায়। দাঁত ওঠার সময় শিশুরা এই অবস্থায় বেশি পড়ে।
৪। খ) স্ত্রীরোগে ক্যামোমিলার ব্যবহার লিখ।

উত্তর: স্ত্রীদের বিভিন্ন রোগে ক্যামোমিলা তার মানসিক ও শারীরিক লক্ষণের ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়:

  • কষ্টরজ (Dysmenorrhea): ঋতুস্রাবের সময় জরায়ুতে তীব্র মোচড়ানো বা প্রসব বেদনার মতো ব্যথা হয়। ব্যথার তীব্রতায় নারী অত্যন্ত খিটখিটে ও অসহনশীল হয়ে ওঠেন এবং সবার সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
  • স্রাবের প্রকৃতি: ঋতুস্রাব সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হয়, পরিমাণে অনেক বেশি এবং কালচে ও চাকা চাকা জমাট বাঁধা রক্তের মতো নির্গত হয়।
  • মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি: সামান্য কারণে বা রাগের মাথায় নারীদের ঋতুস্রাব হঠাৎ বন্ধ বা অনিয়মিত হয়ে গেলে ক্যামোমিলা তা পুনরায় স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
৪। গ) কৃমিতে সিনার লক্ষণসমূহ লিখ।

উত্তর: সিনা (Cina) শিশুদের কৃমির সমস্যার জন্য একটি অতি উৎকৃষ্ট ওষুধ। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • নাক খোঁটা: কৃমি আক্রান্ত শিশুটি সারাক্ষণ নখে বা আঙুল দিয়ে নাক চুলকায় বা নাকের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে খোঁটে।
  • দাঁত কিড়মিড় করা: শিশুটি ঘুমের ঘোরে অবচেতনভাবেই দাঁতে দাঁত ঘষে বা কিড়মিড় শব্দ করে।
  • পেটে ব্যথা ও ক্ষুধা: পেটে নাভির চারপাশে প্রায়ই মোচড়ানো ব্যথা হয়। শিশুর অস্বাভাবিক ক্ষুধা থাকে, খাওয়ার পরপরই সে আবার খেতে চায়।
  • ঘুমের ঘোরে চমকে ওঠা: শিশু ঘুমের মধ্যে ছটফট করে, উপুড় হয়ে শোয় এবং হঠাৎ চিৎকার করে কেঁদে জেগে ওঠে।

৫। ক) আঘাতে আর্নিকার ব্যবহার লিখ।

উত্তর: হোমিওপ্যাথিতে যেকোনো ধরনের আঘাতের জন্য আর্নিকা মন্টানা (Arnica Montana) হলো সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক। এর প্রধান ব্যবহারগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ভোতা অস্ত্রের আঘাত: পড়ে গিয়ে, থেঁতলে গিয়ে বা ভোঁতা কোনো কিছুর আঘাতে পেশিতে যে কালশিটে পড়ে এবং তীব্র ব্যথা হয়, সেখানে আর্নিকা অতুলনীয়।
  • বিছানা শক্ত মনে হওয়া: ব্যথার তীব্রতায় রোগী যে বিছানায় শোয়, সেটিকে অত্যন্ত শক্ত মনে করে এবং আরামের জন্য বারবার শুয়ো পরিবর্তন করে।
  • পুরোনো আঘাতের ব্যথা: অনেক বছর আগের কোনো আঘাতের কারণে বর্তমান সময়ে যদি কোনো ব্যথা বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তবে আর্নিকা তা দূর করতে পারে।
  • অস্ত্রোপচার বা প্রসব পরবর্তী ব্যথা: যেকোনো সার্জারি বা সন্তান প্রসবের পর শরীরের ভেতরের ক্ষত ও ব্যথা দ্রুত শুকাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
五। খ) টাইফয়েড জ্বরে আর্নিকার লক্ষণসমূহ লিখ।

উত্তর: টাইফয়েড বা যেকোনো মারাত্মক সংক্রামক জ্বরের শেষ অবস্থায় যখন রোগী অত্যন্ত অবশ ও অচেতন হয়ে পড়ে, তখন আর্নিকার প্রয়োগ হয়:

  • অসাড়ে মলমূত্র ত্যাগ: রোগী এতটা দুর্বল ও সংজ্ঞাহীন থাকে যে সে অসাড়ে বিছানায় মল ও মূত্র ত্যাগ করে ফেলে।
  • প্রশ্ন করলে উত্তর দিয়ে আবার ঘুমানো: রোগীকে কোনো প্রশ্ন করলে সে আংশিক বা সঠিক উত্তর দেয়, কিন্তু উত্তর শেষ করার আগেই আবার গভীর তন্দ্রা বা ঘোরের মধ্যে তলিয়ে যায়।
  • শরীরে কালশিটে দাগ: জ্বরের তীব্রতায় রক্ত দূষিত হয়ে ত্বকের নিচে ছোট ছোট কালশিটে বা রক্তজমা দাগ দেখা দেয়।
  • দুর্গন্ধ: রোগীর মুখ থেকে নিঃশ্বাস, ঘাম এবং মলমূত্র অত্যন্ত পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
৫। গ) বাত রোগে রাস টক্সের লক্ষণাবলি লিখ।

উত্তর: রাস টক্স (Rhus Tox) বাত ব্যথার জন্য একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ওষুধ। এর প্রধান চরিত্রগত লক্ষণগুলো হলো:

  • প্রথম নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, ক্রমাগত নড়াচড়ায় উপশম: রোগী যখন দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামের পর প্রথম হাঁটতে বা নড়াচড়া করতে যায়, তখন ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু ক্রমাগত কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা নড়াচড়া করলে ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে।
  • ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় বৃদ্ধি: বর্ষাকাল, মেঘলা আকাশ বা স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়ায় এবং ঠান্ডা লাগলে এই বাত ব্যথা বহু গুণ বেড়ে যায়।
  • উষ্ণতায় উপশম: ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দিলে বা গরম কাপড় জড়িয়ে রাখলে রোগী বেশ আরাম বোধ করে।
  • অস্থিরতা: ব্যথার কারণে রোগী এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে বা শুয়ে থাকতে পারে না, বিছানায় অনবরত ছটফট করে এবং পাশ ফেরে।

৬। ক) বেলেডোনার নির্দেশক লক্ষণসমূহ লিখ।

উত্তর: বেলেডোনা (Belladonna) তীব্র এবং হঠাৎ আক্রমণকারী রোগের জন্য প্রসিদ্ধ। এর প্রধান ৫টি নির্দেশক লক্ষণ হলো:

  • হঠাৎ আক্রমণ ও হঠাৎ প্রস্থান: এর যেকোনো রোগ বা ব্যথা হঠাৎ তীব্রভাবে আসে এবং আবার হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়।
  • রক্তাধিক্য ও লালভাব: আক্রান্ত স্থান অত্যন্ত লাল, গরম এবং স্ফীত হয়ে ওঠে। রোগীর মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ বা টকটকে লাল দেখায় এবং চোখ চকচক করে।
  • স্পন্দিত ব্যথা (Throbbing Pain): আক্রান্ত স্থানে বা মাথায় দপ দপ করার মতো ব্যথা হয়, যা ধমনীর স্পন্দনের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।
  • পিপাসাহীনতা বা আংশিক পিপাসা: তীব্র জ্বর ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও রোগীর জলপানের তেমন পিপাসা থাকে না, অথবা সে সামান্য চুমুক দিয়ে পানি পান করে।
  • উগ্রতা ও প্রলাপ: জ্বরের ঘোরে রোগী হিংস্র হয়ে ওঠে, কামড়াতে বা মারতে চায় এবং ভয়ানক সব জিনিস দেখে প্রলাপ বকে।
৬। খ) মাথাব্যথায় গ্লোনইন এর ব্যবহার লিখ।

উত্তর: গ্লোনইন (Glonoine) মাথায় রক্তাধিক্যজনিত তীব্র মাথাব্যথার জন্য একটি চমৎকার ওষুধ:

  • সূর্যালোক বা গরমে বৃদ্ধি: রোদে ঘোরাঘুরি করলে, আগুনের পাশে গেলে বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে যদি তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, তবে গ্লোনইন ব্যবহৃত হয়।
  • দপ দপানি ব্যথা: মাথায় এমন তীব্র দপ দপানি ব্যথা হয় যে রোগীর মনে হয় মাথাটা এখনই ফেটে যাবে। প্রতিটি হার্টবিটের সাথে সাথে মাথায় ব্যথার ধাক্কা লাগে।
  • মাথা নিচু করতে না পারা: রোগী মাথা নিচু করতে পারে না, নিচু করলে কষ্ট বাড়ে। সে মাথা সোজা করে বা পেছনের দিকে হেলিয়ে রাখতে পছন্দ করে।
৬। গ) রক্তচাপে গ্লোনইন এর ব্যবহার আলোচনা কর।

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) নিয়ন্ত্রণে গ্লোনইনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ: কোনো মানসিক উত্তেজনা, ভয় বা হঠাৎ রোদের উত্তাপের কারণে রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেশি বেড়ে গেলে এটি দেওয়া হয়।
  • লক্ষণসমূহ: রক্তচাপ বৃদ্ধির ফলে রোগীর ঘাড়ের ও মাথার ধমনীগুলো ফুলে ওঠে এবং দৃশ্যমানভাবে কাঁপতে বা স্পন্দিত হতে দেখা যায়। রোগীর বুক ধড়ফড় করে এবং মাথায় প্রচণ্ড রক্ত উঠে মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়।
  • প্রয়োগ ক্ষেত্র: স্ট্রোক বা সেরিব্রাল কনজেশন (মস্তিষ্কে রক্তাধিক্য) প্রতিরোধে এই ওষুধটি প্রাথমিক অবস্থায় অত্যন্ত কার্যকরী।

৭। ক) ইগ্নেশিয়ার মানসিক লক্ষণসমূহ লিখ।

উত্তর: ইগ্নেশিয়া (Ignatia Amara) হলো মানসিক আঘাত, শোক ও দুঃখের একটি প্রধান ওষুধ। এর মানসিক লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:

  • নীরব শোক ও দীর্ঘশ্বাস: প্রিয়জনের মৃত্যু বা প্রেমে ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট গভীর দুঃখ রোগী মনে চেপে রাখে, সহজে কাঁদে না, তবে অবিরত গভীর দীর্ঘশ্বাস (Sighing) ফেলে।
  • পরস্পর বিরোধী মানসিকতা: রোগীর মেজাজ ও আচরণে চরম অসঙ্গতি দেখা যায়। এই হাসছে, তো পরক্ষণেই আবার কেঁদে ফেলছে।
  • একাকীত্ব পছন্দ: রোগী জনসমাগম এড়িয়ে একা নিরালায় থাকতে পছন্দ করে এবং নিজের দুঃখ নিয়ে একনাগাড়ে চিন্তা করে।
  • হিস্টিরিয়া প্রবণতা: মানসিক আবেগের তীব্রতায় রোগীর শরীরে খিঁচুনি বা হিস্টিরিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৭। খ) আর্সেনিকের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর: আর্সেনিক অ্যালবামের (Arsenicum Album) ৫টি প্রধান চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:

  • অস্থিরতা (Restlessness): রোগী শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত অস্থির থাকে। ব্যথার চোটে সে এক বিছানা থেকে অন্য বিছানায় ছুটে বেдаря।
  • মৃত্যুভয় (Fear of death): রোগীর মনে তীব্র মৃত্যুভয় কাজ করে। সে ভাবে তার রোগ আর সারবে না, তাই ওষুধ খাওয়াও নিরর্থক মনে করে।
  • জ্বালাকর ব্যথা (Burning Pain): শরীরের যেকোনো ক্ষতে বা ব্যথায় আগুনের মতো তীব্র জ্বালা পোড়া ভাব থাকে।
  • উষ্ণতায় উপশম: আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তীব্র জ্বালাপোড়া সত্ত্বেও আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিলে বা গরম পানীয় পান করলে রোগী আরাম পায়।
  • অল্প অল্প পানি পানের পিপাসা: রোগীর তীব্র পিপাসা থাকে, তবে সে একসাথে বেশি পানি পান করতে পারে না; অল্প সময় পর পর কেবল এক বা দুই চুমুক পানি পান করে।
৭। গ) আর্সেনিক, একোনাইট ও ব্রায়োনিয়ার পানি পিপাসার লক্ষণ তুলনা কর।

উত্তর: হোমিওপ্যাথিক ওষুধের তুলনামূলক অধ্যয়নে এই তিনটি ওষুধের পানির পিপাসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য নির্দেশ করে:

ওষুধ পানি পিপাসার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ
আর্সেনিক (Arsenic) তীব্র পিপাসা থাকে, তবে রোগী অল্প অল্প করে ঘন ঘন পানি পান করে (এক বা দুই চুমুক মাত্র)।
একোনাইট (Aconite) তীব্র ও অবিরাম পিপাসা থাকে। রোগী অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা পানি পান করে।
ব্রায়োনিয়া (Bryonia) রোগী দীর্ঘ সময় পর পর একবারে অনেকখানি বা প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা পানি একসাথে পান করে।

৮। সংক্ষেপে লিখ :-
ক) শোথে অ্যাপোসাইনামের ব্যবহার।

উত্তর: অ্যাপোসাইনাম (Apocynum Can) যেকোনো ধরনের শোথ বা ড্রপসি (Dropsy/শরীরে পানি জমা) রোগের একটি অন্যতম প্রধান ওষুধ। হৃদরোগ, যকৃৎ বা কিডনির গোলযোগের কারণে যখন হাত, পা, পেট বা সমস্ত শরীর ফুলে পানি জমে যায়, তখন এটি ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো—শরীর ফুলে যাওয়ার সাথে তীব্র পিপাসা থাকে কিন্তু পানি পান করলেই রোগী তা বমি করে ফেলে বা পেটে অস্বস্তি বোধ করে। এটি মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করে শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে।

খ) উদাহরণসহ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের উৎস।

উত্তর: হোমিওপ্যাথিক ওষুধ মূলত প্রাকৃতিক বিভিন্ন উৎস থেকে তৈরি হয়। প্রধান ৫টি উৎস ও উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

  1. উদ্ভিদ জগত (Vegetable Kingdom): গাছপালা বা লতাগুল্ম থেকে। যেমন—ব্রায়োনিয়া (Bryonia), পালসেটিলা (Pulsatilla)
  2. খনিজ জগত (Mineral Kingdom): ধাতু বা কেমিক্যাল থেকে। যেমন—সালফার (Sulphur), *আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenic Album)*।
  3. প্রাণী জগত (Animal Kingdom): জীবজন্তুর অংশ বা বিষ থেকে। যেমন—ল্যাকেসিস (Lachesis) (সাপের বিষ), এপিস মেল (Apis Mellifica) (মৌমাছি)।
  4. রোগজ উৎস (Nosodes): রোগাক্রান্ত জীবাণু বা টিস্যু থেকে। যেমন—সোরিনাম (Psorinum), মেডোরিনাম (Medorrhinum)
  5. সুস্থ অঙ্গজাত উৎস (Sarcodes): সুস্থ প্রাণীর হরমোন বা গ্রন্থি থেকে। যেমন—থাইরয়ডিনাম (Thyroidinum)
গ) আমাশয়ে অ্যালো সকেট্রিনার লক্ষণ।

উত্তর: অ্যালো সকেট্রিনা (Aloe Socotrina) আমাশয় চিকিৎসায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। এর মূল লক্ষণগুলো হলো:

  • মলদ্বারের পেশির চরম শিথিলতা; রোগী বায়ু ত্যাগ করতে গেলে অজান্তেই মল বা আমাশয়ের শ্লেষ্মা নির্গত হয়ে যায়।
  • মলত্যাগের আগে পেটে ও নাভির চারপাশে প্রচণ্ড মোচড়ানো ব্যথা হয়, কিন্তু মলত্যাগের পরপরই ব্যথার উপশম হয় এবং রোগী আরাম পায়।
  • মল আঠালো, জেলের মতো শ্লেষ্মা বা আমযুক্ত এবং অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত হয়। সকালে বিছানা থেকে ওঠার পরেই মলত্যাগের তীব্র বেগ হয়।
ঘ) বমিতে ইথুজার ব্যবহার।

উত্তর: ইথুজা সিনাপিয়াম (Aethusa Cynapium) বিশেষ করে শিশুদের দুধ সহ্য না হওয়া এবং বমির জন্য একটি মহৌষধ:

  • শিশু দুধ পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা তীব্র বেগে বমি করে উগরে দেয়।
  • বমি করা দুধ দেখতে দইয়ের মতো জমাট বাঁধা বা ছানা কাটার মতো (Curdling of milk) দেখায়।
  • বমি করার পরপরই শিশুটি অত্যন্ত ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে। জেগে ওঠার পর সে আবার ক্ষুধার্ত হয় এবং পুনরায় দুধ পানের পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
ঙ) উদরাময়ে পডোফাইলামের লক্ষণ।

উত্তর: পডোফাইলাম (Podophyllum) গ্রীষ্মকালীন ডায়রিয়া বা উদরাময়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • মল অত্যন্ত জলো, প্রচুর পরিমাণে এবং তীব্র বেগে (পায়খানা ছিটকে পড়ার মতো) নির্গত হয়।
  • মলত্যাগের সময় কোনো ব্যথা থাকে না (Painless diarrhoea), তবে মলের গন্ধ অত্যন্ত পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
  • ডায়রিয়ার সাথে প্রায়শই মলদ্বার বাইরে ঝুলে পড়ার (Prolapsus ani) প্রবণতা দেখা যায়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। সাধারণত সকালের দিকে মলত্যাগের বেগ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post