আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

এইচএসসি কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক পরীক্ষণের বর্ণনা।

এইচএসসি কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক পরিক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ব্যবহারিক কৃষিশিক্ষা

কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্র ব্যবহারিক

ব্যবহারিক পাঠ-১

পরীক্ষণের নাম: মাছের সুষম সম্পূরক খাদ্য তৈরি ও প্রয়োগ পদ্ধতি

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
ক. মাছের গুঁড়া, খ. চালের কুঁড়া, গ. সরিষার খৈল, ঘ. গম ও ডালের ভুসি, ঙ. চিটাগুড়, চ. বালতি, ছ. পানি, জ. ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ ইত্যাদি।

কার্যপদ্ধতি:

  1. সর্বপ্রথম প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরিষার খৈল একটি পাত্রের পানিতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলাম।
  2. এরপর ভিজা খৈলের সাথে প্রয়োজনীয় পরিমাণ নিম্নোক্ত উপাদানগুলো মিশিয়ে ১০ কেজি খাবার তৈরি করলাম। (নিচের টেবিলটি দুই নম্বর পয়েন্টের পর লিখতে হবে)
মাছের সম্পূরক খাদ্য
3. মিশ্রিত খাদ্যোপাদানগুলো দ্বারা হাতের সাহায্যে ছোট ছোট বল তৈরি করলাম এবং একটি পাত্রে সংরক্ষণ করলাম।
4. পাত্রটি পুকুরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পানির ৩০ থেকে ৪৫ সে.মি. নিচে বাঁশের সাথে বেঁধে ডুবিয়ে রাখলাম।
5. প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য দুভাগে ভাগ করে সকাল ও বিকালে পানির নিচের পাত্রে দিয়ে দিলাম।

6. পোনার ক্ষেত্রে ১০-১৫% ভেজা খাদ্য পেস্ট আকারে পুকুরের চারদিকে ছড়িয়ে দিলাম।

7. কার্প জাতীয় মাছের জন্য মজুদ মাছের মোট ওজনের শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ হারে প্রতিদিন খাবার দিলাম।

8. পুকুরে গ্রাসকার্প, রাজপুঁটি ইত্যাদি থাকলে ক্ষুদিপানা, শাকসবজির পাতা ও ঘাস কেটে ছোট ছোট করে দিয়ে দিলাম।

চিত্র: মাছের সম্পূরক খাদ্য প্রস্তুত প্রণালি।
(১) সরিষার খৈল, (২) চালের কুঁড়া, (৩) খৈল, কুঁড়া ও অন্যান্য খাদ্যোপাদান মিশ্রিত খাবার, (৫) তৈরিকৃত সম্পূরক খাদ্যের বল

ক্রম খাদ্যোপকরণের নাম পরিমাণ
১. চালের কুঁড়া ৩.৫ কেজি
২. গম / ডালের ভুসি ২.০ কেজি
৩. সরিষার খৈল ৩.০ কেজি
৪. শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১.০ কেজি
৫. চিটাগুঁড় ৪০০ গ্রাম
৬. ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ ১০০ গ্রাম
মোট ১০ কেজি

ব্যবহারিক কৃষিশিক্ষা

ব্যবহারিক পাঠ-০২

পরীক্ষণের নাম: ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দানাদার খাদ্য তৈরি

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
ক. খাদ্য তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, খ. উপকরণ মাপার জন্য পাল্লা, গ. বালতি, গামলা, বস্তা ইত্যাদি।

কার্যপদ্ধতি:

১। প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির ১০ কেজি দানাদার খাদ্য তৈরির জন্য নিচের খাদ্য উপাদানগুলো পৃথক পৃথকভাবে মেপে নিলাম।

ক্রম খাদ্যোপাদানের নাম উপকরণের পরিমাণ
লেয়ার মুরগি ব্রয়লার মুরগি
১. গম ও ভুট্টা ভাঙা ৪.৮ কেজি ৪.৭০ কেজি
২. চাউলের কুঁড়া ১.৬ কেজি ১.৭০ কেজি
৩. তিলের খৈল ১.২ কেজি ১.২৫ কেজি
৪. সয়াবিন / চিনাবাদাম মিল ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
৫. শুটকি মাছ গুঁড়া ১.৯ কেজি ১.৮ কেজি
৬. ঝিনুকের গুঁড়া ১২৫ গ্রাম ২০০ গ্রাম
৭. লবণ ৫০ গ্রাম ২৫ গ্রাম
৮. ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ ২৫ গ্রাম ২৫ গ্রাম
৯. হাড়ের গুঁড়া ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম
মোট ১০ কেজি ১০ কেজি
  1. এবার যে কোনো মুরগির তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণগুলো একটি পাত্রে একত্রিত করলাম।
  2. পাত্রের খাদ্যোপাদানগুলো গ্রাইন্ডারে বা যাতাকলে ভালো করে গুঁড়া করে নিয়ে চালুনি দ্বারা চেলে নিলাম।
  3. তারপর মিশ্রিত খাদ্য ভালোভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে বস্তায় ভরে শুষ্ক ও ঠাণ্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করলাম।
  4. পিলেট বা বড়ি আকারে খাদ্য বানানোর জন্য মিশ্রিত খাদ্যোপাদানে পানি ঢেলে আঠালো মন্ডে পরিণত করলাম।
  5. এ পেস্ট বা মন্ড যন্ত্রের সাহায্যে পিলেট বা বড়ি আকারে তৈরি করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করলাম।
  6. সবশেষে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ব্যবহারিক খাতায় লেখ।
              ব্রয়লার ও লেয়ারের দানাদার খাদ্য

সাবধানতা:
(১) খাদ্য উপকরণগুলো সঠিক অনুপাতে মিশাতে হবে।
(২) খাদ্য উপকরণগুলো ভালো মানের এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জোগাড় করতে হবে।
(৩) স্যাঁতসেঁতে ও অপরিষ্কার জায়গায় খাদ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা যাবে না।


পরীক্ষণ-০৩

পরীক্ষার নাম: ইউরিয়ার সাহায্যে খড় প্রক্রিয়াজাতকরণ।

উপকরণ: ১. খড় ১০ কেজি, ২. ইউরিয়া ১/২ কেজি, ৩. পানি ১০ লিটার, ৪. বালতি-১ টি, ৫. বাঁশের ডোল, ৬. ছালা ও পলিথিন।

কার্যের ধারা:

  1. প্রথমে বাঁশের ডোলটি মাটি ও গোবর দিয়ে লেপে শুকিয়ে নিলাম।
  2. বালতিতে পানি নিয়ে ইউরিয়া মিশ্রিত করলাম।
  3. বাঁশের ডোলটিতে অল্প অল্প খড় দিয়ে অল্প অল্প ইউরিয়া মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দিলাম।
  4. এভাবে ডোলটিকে সমস্ত খড়ে ইউরিয়া মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে চেপে চেপে ভরে দিলাম।
  5. ডোলের মুখ প্রথমে ছালা দিয়ে এবং পরে পলিথিন দিয়ে বেঁধে দিলাম।
  6. পরবর্তীতে ১০/১২ দিন পর ডোল থেকে খড় বের করে খড় শুকিয়ে নিলাম।
চিত্র: ইউরিয়ার সাহায্যে খড় প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রদর্শন।

সাবধানতা:
১। ইউরিয়া মিশ্রিত পানি বাচ্চা ও বাছুরের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
২। কাজ শেষে হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩। সদ্য ইউরিয়া মিশ্রিত খড় গরুকে খাওয়ানো যাবে না।


ব্যবহারিক-০৪

পরীক্ষণ: সুস্থ ডিম নির্বাচন

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
ক. কয়েকটি ডিম, খ. ডিম রাখার পাত্র, গ. ওজন করার নিক্তি, ঘ. বাতি বা বৈদ্যুতিক বাল্ব।

চিত্র: মুরগির ডিম


কাজের ধাপ:
পাত্র থেকে ডিমগুলো নিয়ে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করলাম:

  1. ডিমগুলোর আকার স্বাভাবিক কিনা অর্থাৎ অত্যাধিক বড় বা অত্যাধিক ছোট কিনা লক্ষ্য করলাম।
  2. ডিমের খোসার রং স্বাভাবিক কিনা। অর্থাৎ যে জাতের মুরগির ডিম ফুটায়, সে জাতের ডিমের স্বাভাবিক রং আছে কিনা খেয়াল করলাম।
  3. এবার প্রতিটি ডিম ওজন পাল্লায় মেপে দেখে ওজন স্বাভাবিক (৫৫-৬৫ গ্রাম) আছে কিনা।
  4. খোসা শক্ত ও মসৃণ ধরনের কিনা। কেননা শক্ত খোসাযুক্ত মসৃণ ডিম বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ভালো।
  5. ফুটানোর ডিম তিন দিনের কম বয়সের কিনা (শীতকালে ৮ থেকে ১০ দিন) তা পর্যবেক্ষণ করলাম।
  6. বৈদ্যুতিক বাল্ব এর নিচে একটি করে ডিম ধরে পরীক্ষা করে যে ডিমের মধ্যে রক্তের ছিটা, ঘোলাটে বা বুদবুঁদ মনে হয় কিনা (যদি হয়, তবে সে ডিম বাদ দিতে হবে)।
  7. পানিতে ধোয়া ডিম কিনা (পানিতে ধুইলে ভেতরে পানি ঢুকে ডিম নষ্ট হতে পারে) তা জেনে নিলাম।

যদি সংগৃহীত ডিমগুলো পর্যবেক্ষণ করে উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়, তবে সে ডিম বাচ্চা ফুটানোর জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

সাবধানতা:
১. ডিমগুলো সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে, যাতে করে ভেঙে না যায়।
২. খুব সূক্ষ্মভাবে ডিমের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

কৃষিশিক্ষা-২য় পত্র

ব্যবহারিক-১০

পরীক্ষণ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ ও পরিচর্যা।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
১. বনজ বৃক্ষের চারা (মেহগনি, সেগুন, কড়ই), ২. কোদাল, ৩. খুরপি, ৪. খুঁটি ও রশি, ৫. বালতি, ৬. ঝাঁঝরি, ৭. বেড়া, ৮. পানি।

কাজের ধাপ:

  1. আগে তৈরি করা গর্তে সার মাটি মেশানো গর্তের মাটি কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করলাম।
  2. গর্তের মাঝে চারার গোড়ার মাটির সমান আকৃতির আর একটি গর্ত করলাম।
  3. চারার পলিব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে অপসারণ করে যাতে মাটির দলা বা বলটি ভেঙে না যায়।
  4. দুই হাত দিয়ে চারার গোড়ার বলটি ধরে চারাটি সোজা করে গর্তে বসিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিলাম।
  5. এবার চারার গোড়ার কাছে খুঁটি পুঁতে খুঁটির সাথে হালকাভাবে চারা বেঁধে দিলাম।
  6. ঝাঁঝরি দিয়ে চারায় পানি ঢেলে দিলাম।
  7. গবাদি পশুর আক্রমণ এড়ানোর জন্য চারার চারদিকে বেড়া দিয়ে দিলাম।
  8. চারার গোড়ায় মাটি উঁচু করে নরম করে দিলাম।
  9. চারার গোড়ায় কচুরিপানা লতাপাতা দিয়ে জাবড়া দিয়ে দিলাম।
  10. চারা ছোট হলে এবং রোদ কড়া উঠলে ছায়া দিয়ে দিলাম।


চিত্র: বনজ বৃক্ষের চারা


সাবধানতা:
১. চারার গোড়ার মাটির বল যেন না ভাঙে।
২. চারা রোপণ যেন সোজা হয়।


Collected By-
প্রভাষক কৃষিবিদ ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ ফারাজী
ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ
01799353740

Post a Comment

Previous Post Next Post