ডিএইচএমএস পরীক্ষা: মেটেরিয়া মেডিকা ১ম বর্ষের প্রশ্নোত্তর
বিষয়: মেটেরিয়া মেডিকা (প্রথম বর্ষ) | বিষয় কোড: ১০৩
১। (ক) মেটেরিয়া মেডিকা বলতে কী বোঝো? ইহা পাঠের প্রয়োজনীয়তা লেখো। (খ) হোমিওপ্যাথিক ও অ্যালোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকার মধ্যে পার্থক্য লেখো। (গ) হোমিওপ্যাথিক ওষুধের উৎসগুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর (ক): যে শাস্ত্রে ভেষজের গুণাগুণ, ভেষজ পরীক্ষালব্ধ লক্ষণ এবং মানবদেহে তার ক্রিয়া ও রোগ আরোগ্য করার ক্ষমতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়, তাকে মেটেরিয়া মেডিকা বলে। ওষুধ চেনা, সদৃশ লক্ষণ মেলানো এবং সঠিক ওষুধ নির্বাচনের জন্য এটি পাঠ করা আবশ্যক।
উত্তর (খ): হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা সুস্থ মানবদেহে ওষুধ পরীক্ষার (Proving) মাধ্যমে প্রাপ্ত মানসিক ও শারীরিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। পক্ষান্তরে, অ্যালোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা মূলত পশুপাখির ওপর পরীক্ষা এবং স্থূল ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
উত্তর (গ): হোমিওপ্যাথিক ওষুধের প্রধান উৎসসমূহ হলো: ১. উদ্ভিজ্জ (Plant), ২. খনিজ (Mineral), ৩. প্রাণীজ (Animal), ৪. রোগজ বা নোসোডস (Nosodes), ৫. সুস্থ জৈব বা সারকোডস (Sarcodes) এবং ৬. শক্তিজাত বা ইমপন্ডারাবিলিয়া (Imponderabilia)।
২। (ক) ব্রায়োনিয়ার প্রুভার কে? ইহার নির্দেশক লক্ষণগুলি লেখো। (খ) বাত রোগে ব্রায়োনিয়া ও রাসটক্সের মধ্যে তুলনা করো। (গ) ইহার হ্রাস-বৃদ্ধি ও অনুপূরক ওষুধের নাম লেখো।
উত্তর (ক): ব্রায়োনিয়া অ্যালবা (Bryonia Alba) এর প্রুভার হলেন মহাত্মা ড. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। এর প্রধান নির্দেশক লক্ষণ হলো সামান্য নড়াচড়ায় সব কষ্ট বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ বিশ্রামে আরাম, অত্যন্ত শুষ্কতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য, এবং প্রচুর পানি পিপাসা।
উত্তর (খ): বাত রোগে ব্রায়োনিয়ার লক্ষণ হলো সামান্য নড়াচড়ায় ব্যথা বৃদ্ধি পায় এবং চেপে শুইলে বা বিশ্রামে উপশম হয়। বিপরীতভাবে, রাসটক্সের (Rhus Tox) লক্ষণ হলো প্রথম নড়াচড়ায় বা বিশ্রামে ব্যথা বৃদ্ধি পায় কিন্তু ক্রমাগত নড়াচড়া বা হাঁটাচলা করলে ব্যথা কমে যায়।
উত্তর (গ): ব্রায়োনিয়ার বৃদ্ধি হয় সামান্য নড়াচড়ায় এবং গরমে। হ্রাস হয় সম্পূর্ণ বিশ্রামে এবং আক্রান্ত পাশে চেপে শুইলে। এর অনুপূরক (Complementary) ওষুধ হলো অ্যালুমিনা (Alumina) ও রাসটক্স (Rhus Tox)।
৩। (ক) ইথুজার চারিত্রিক লক্ষণসমূহ লেখো। (খ) শিশু উদরাময়ে ইথুজার ব্যবহার লেখো। (গ) ইহার উৎস এবং হ্রাস-বৃদ্ধি লেখো।
উত্তর (ক): ইথুজা সিনাপিয়াম (Aethusa Cynapium) এর প্রধান চারিত্রিক লক্ষণ হলো দুধ সহ্য করতে না পারা, তীব্র বমি, বমির পর অত্যন্ত ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব এবং শিশুদের দাঁত ওঠার সময় বা গরমে পেটের অসুখ।
উত্তর (খ): শিশু উদরাময়ে বা পেটের অসুখে শিশু দুধ খাওয়ার পরপরই তা দইয়ের মতো বা ছানা কাটার মতো বড় বড় চাকা আকারে বমি করে দেয়। বমি ও দাস্তের পর শিশু একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং কপালে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়।
উত্তর (গ): ইথুজার উৎস হলো উদ্ভিজ্জ (Fool's Parsley)। এর বৃদ্ধি হয় গরমে, দুধ পানে এবং ভোরবেলা। হ্রাস হয় ঠান্ডা বাতাসে ও বিশ্রামে।
৪। (ক) চেলিডোনিয়ামের উৎস ও ক্রিয়াস্থল লেখো। (খ) ইহার চরিত্রগত লক্ষণ লেখো। (গ) যকৃৎ পীড়ায় ইহার ব্যবহার লেখো।
উত্তর (ক): চেলিডোনিয়াম (Chelidonium Majus) এর উৎস হলো উদ্ভিজ্জ। এর প্রধান ক্রিয়াস্থল হলো যকৃৎ (Liver), পিত্তথলি (Gall Bladder) এবং পরিপাকতন্ত্র।
উত্তর (খ): প্রধান চরিত্রগত লক্ষণ হলো ডান স্কন্ধাস্থির (Right Shoulder Blade) নিচের কোণে সার্বক্ষণিক নির্দিষ্ট একটি তীব্র ব্যথা এবং গরম খাদ্য বা পানীয় পানে আরাম বোধ করা।
উত্তর (গ): যকৃতের নানা রোগ যেমন জন্ডিস, পিত্তপাথরি, যকৃৎ বড় হয়ে যাওয়া ইত্যাদি পিড়ায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী। রোগীর মল হালকা মাটি বা সোনালী হলুদ রঙের হয়, জিব হলুদ বর্ণের এবং মুখে তেতো স্বাদ থাকে।
৫। (ক) এপিস মেলের প্রুভার কে? ইহার ক্রিয়াস্থল লেখো। (খ) মূত্রতন্ত্রের উপর ইহার ক্রিয়া বর্ণনা করো। (গ) ইহার নির্দেশক লক্ষণসমূহ লেখো।
উত্তর (ক): এপিস মেল (Apis Mellifica) এর প্রুভার ড. সেন্টেন। এর প্রধান ক্রিয়াস্থল হলো কোষঝিল্লি (Cellular Tissues), ত্বক, চোখ, মূত্রতন্ত্র এবং ডিম্বাশয়।
উত্তর (খ): মূত্রতন্ত্রের ওপর এর প্রধান ক্রিয়া হলো প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া। প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও হুল ফোটানো ব্যথা অনুভূত হয় এবং শেষ ফোঁটা বের হওয়ার সময় রোগী ব্যথায় কেঁদে ওঠে।
উত্তর (গ): প্রধান নির্দেশক লক্ষণসমূহ হলো: হুল ফোটানো বা মৌমাছি কাটার মতো ব্যথা, শোথ বা ফোলা ভাব, তৃষ্ণা হীনতা (Thirstlessness) এবং গরম বা উত্তাপে চরম কষ্ট বৃদ্ধি।
৬। (ক) আর্ণিকার উৎস ও ক্রিয়াস্থল লেখো। (খ) টাইফয়েড জ্বরে ইহার লক্ষণ বর্ণনা করো। (গ) আঘাতজনিত পীড়ায় ইহার ব্যবহার লেখো।
উত্তর (ক): আর্ণিকা মন্টেনা (Arnica Montana) এর উৎস উদ্ভিজ্জ। এর প্রধান ক্রিয়াস্থল হলো রক্তকৈশিক ঝিল্লি, মাংসপেশি এবং ত্বক।
উত্তর (খ): টাইফয়েড জ্বরে রোগী প্রচণ্ড তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর দিয়ে আবার অচেতন হয়ে পড়ে। রোগী মনে করে তার বিছানাটি অত্যন্ত শক্ত এবং সারা শরীরে থেঁতলে যাওয়ার মতো ব্যথা অনুভব করে।
উত্তর (গ): যেকোনো ভোঁতা বা যান্ত্রিক আঘাত, পড়ে যাওয়া বা মচকানোর কারণে সৃষ্ট কালশিটে, রক্ত জমাট বাঁধা এবং মাংসপেশির তীব্র ব্যথায় আর্ণিকা প্রথম ও প্রধানতম ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৭। (ক) চায়নার প্রুভারের নাম লেখো। ইহার ক্রিয়াস্থল লেখো। (খ) রক্তস্রাবে ইহার ব্যবহার লেখো। (গ) পরিপাকতন্ত্রে ইহার ব্যবহার লেখো।
উত্তর (ক): চায়না বা সিনকোনা (China Officinalis) এর প্রুভার ড. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। এর প্রধান ক্রিয়াস্থল হলো রক্ত, রক্তসংবহনতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র।
উত্তর (খ): শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তস্রাব বা যেকোনো তরল ধাতু ক্ষয়ের কারণে রোগী যখন অত্যন্ত দুর্বল, ফ্যাকাশে এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে, কানে কম শোনে বা চোখে অন্ধকার দেখে, তখন চায়না জাদুকরী কাজ করে।
উত্তর (গ): পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস জমে পেট ঢোলের মতো ফুলে থাকে। সম্পূর্ণ পেট ফেঁপে থাকলেও বায়ু নিঃসরণে কোনো উপশম বা আরাম হয় না। অল্প খেলেই পেট ভরে যায়।
৮। সংক্ষেপে লেখো (টীকা):
(ক) ক্যামোমিলার শিশু চিত্র: ক্যামোমিলার শিশু অত্যন্ত খিটখিটে, জেদি ও রাগী হয়। সে সবসময় কোলে উঠে বেড়াতে চায়, কোলে নিলে কান্না থামে কিন্তু নামিয়ে রাখলেই আবার কান্নাকাটি শুরু করে।
(খ) গরমকাতর তিনটি ওষুধ: ১. সালফার (Sulphur), ২. পালসেটিলা (Pulsatilla) এবং ৩. এপিস মেল (Apis Mellifica)।
(গ) অদ্ভুত লক্ষণ (Uncommon/Peculiar Symptom): যে সমস্ত লক্ষণ রোগের সাধারণ প্যাথলজিক্যাল নিয়মের বাইরে সম্পূর্ণ বিপরীত বা খাপছাড়া মনে হয়, তাকে অদ্ভুত লক্ষণ বলে (যেমন: ব্রায়োনিয়ার আক্রান্ত পাশে চেপে শুইলে আরাম)।
(ঘ) উদরাময়ে পডোফাইলামের চিত্র: পডোফাইলামের দাস্ত সাধারণত সকালের দিকে বৃদ্ধি পায়। মল অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত, প্রচুর পরিমাণে এবং পিছকারি দিয়ে সশব্দে নির্গত হয়। দাস্তের সাথে মলদ্বার ঝুলে পড়ার প্রবণতা থাকে।
(ঙ) একোনাইটের মানসিক লক্ষণ: একোনাইটের প্রধান মানসিক লক্ষণ হলো মৃত্যুর নিশ্চিত ভয়। রোগী ছটফট করে, অত্যন্ত অস্থির থাকে এবং এমনকি তার মৃত্যুর দিন ও সময় পর্যন্ত আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করে ঘোষণা করে।

Post a Comment