এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শীঘ্রই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, বললেন শিক্ষামন্ত্রী।
বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের জন্য একটি বড় সুখবর এসেছে। দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট দূর করতে দ্রুতই নতুন একটি বৃহৎ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে দেশজুড়ে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের সঠিক তালিকা সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। ডিজিটাল ই-রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশ থেকে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের চূড়ান্ত তালিকা জমা পড়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যেই পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকছে না। ড. এহছানুল হক মিলন জোর দিয়ে বলেন, প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছে এনটিআরসিএ। যার ফলে যোগ্য প্রার্থীরাই কেবল মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ পাচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এই আধুনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন শিক্ষককে সুপারিশ করা হয়েছে। এর ঠিক পর পরই ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি আরও ১১ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক মাসেই মোট ৫৩ হাজার ৩৪০ জন নতুন শিক্ষককে নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা হয়েছে।
শুধু এমপিওভুক্ত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণের জন্যও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। পিএসসির মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হলে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকটও পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, জাতীয় মেধাভিত্তিক এই স্বয়ংক্রিয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় দেশের যেকোনো প্রান্তের বা সংসদীয় আসনের শূন্যপদগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদানের গতিশীলতা ফিরে আসবে।
আপনি যদি একজন এনটিআরসিএ নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রার্থী হন, তবে এই ৭৭ হাজার প্লাস শূন্যপদের গণবিজ্ঞপ্তি আপনার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে যাচ্ছে। এনটিআরসিএ-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেকোনো সময় এই বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং মেধা তালিকার পজিশন যাচাই করে এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

Post a Comment