আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনার নীতিমালা।

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনার নীতিমালা

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০২৬ কিভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা নীতিমালা যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আজ ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষা  পরিচালনার সম্পূর্ণ নীতিমালাটি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। 
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০২৬ পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা
সুশিক্ষায় গড়ি দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর
www.jessoreboard.gov.bd
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০২৬
পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা
Regulation framed under section 39 (2) (XI) of the Intermediate and Secondary Education (Amendment) Ordinance (Bangladesh Ordinance No. XVII of 1977), regarding holding and conduct of Examinations.

১. সাধারণ পরিচালনা ও শৃঙ্খলা বিধিমালা

  • ১। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোন পরীক্ষার্থীকে এর পরে প্রবেশ করতে দিলে তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ঐদিনই শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে।
  • ২। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত পরীক্ষার কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন专। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত ফোন বা ইলেক্টনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীগণের বিরুদ্ধে বিধি অনুাযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • ৩। ট্রেজারি-থানা হতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীগণ কোন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এরূপ কোন যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।
  • ৪। প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগ প্রদান করা হবে। তিনি ট্রেজারি, থানা হেফাজত হতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশ্ন বের করে পুলিশ প্রহরায় সকল সেটের প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।
  • ৫। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ (পঁচিশ) মিনিট পূর্বে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তাঁর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বিধি অনুাযায়ী খুলবেন।
  • ৬। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রশ্নপত্র পরিবহনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।
  • ৭। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব কিংবা এ কাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ নজরদারি জোরদার করবে।
  • ৮-১৫। প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীদের নিকট উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যেকোন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

২. এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছু ছাত্র/ছাত্রীদের প্রার্থিতা ও যোগ্যতা

(ক) রেজিস্ট্রেশন (নিয়মিত/অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য):
  • মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষা পাসের পর একজন ছাত্র/ছাত্রী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষাক্রম সমাপ্তির পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।
  • এইচএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনধারী একজন ছাত্র/ছাত্রী একই রেজিস্ট্রেশনে স্ব-স্ব কলেজ হতে ধারাবাহিকভাবে ০৪ (চার) বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
  • বৈধ রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয়সমূহ ব্যতীত অন্য কোন বিষয় নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।
(খ) প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের প্রার্থিতার যোগ্যতা:
  • রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ব্যতীত প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদেরকে ২০২৬ সালের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
  • প্রাইভেট পরীক্ষার্থীগণ কেবল মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও ইসলামী শিক্ষা শাখায় পরীক্ষা দিতে পারবে। যে সমস্ত বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে সে সমস্ত বিষয় নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
  • প্রাইভেট পরীক্ষার্থীগণ চতুর্থ বিষয় (4th Subject) গ্রহণ করতে পারবে না।
(গ) জিপিএ (GPA) উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের প্রার্থিতার যোগ্যতা:
  • এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা পাসের পরের বছর (যদি রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকে) জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
  • কোন পরীক্ষার্থী GPA-5 এর কম পেলে তবেই সে পরীক্ষা পাসের অব্যবহিত পরের বছর GPA উন্নয়ন পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
  • যদি GPA উন্নয়ন না হয় তবে পূর্বের ফল বলবৎ থাকবে। একবারের বেশি উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।

৩. পরীক্ষা কক্ষের নিয়মাবলি ও বর্জনীয় আচরণ

  • প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কালো অথবা নীল বলপেন, কাঠপেন্সিল ও ইরেজার অবশ্যই সাথে আনতে হবে। প্রয়োজনে Non-Programmable Scientific Calculator সাথে আনা যাবে।
  • উত্তরপত্রের কোন পৃষ্ঠায় অপ্রাসঙ্গিক বা আপত্তিজনক লেখা, কোন অসংগত মন্তব্য বা অনুরোধ বা উত্তরপত্র চিহ্নিত করে এমন কোন দাগ বা সাংকেতিক চিহ্ন থাকলে উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
  • পরীক্ষার্থী কখনই প্রশ্নপত্রে, চোষকাগজে কিংবা প্রবেশপত্রে প্রশ্নের উত্তর অথবা অন্য কিছু লিখতে পারবে না।
  • পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার ১৫ (পনের) মিনিট পরে কোন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি বা প্রশ্নপত্র দেয়া যাবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটি ৩০ মিনিট পর্যন্ত বর্ধিত করতে পারেন।

৪. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের (Invigilators) করণীয়

  • তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা: জেলা সদরে জেলা প্রশাসক (DC) এবং উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
  • কক্ষ প্রত্যবেক্ষক নিয়োগ: প্রতি ২০ (বিশ) জন পরীক্ষার্থীর জন্য ০১ (এক) জন কক্ষ প্রত্যবেক্ষক প্রত্যবেক্ষণ কার্যে নিযুক্ত হবেন। কোন শিক্ষক তাঁর নিজস্ব কলেজের পরীক্ষার্থীর কক্ষে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
  • OMR শিট ও স্বাক্ষর লিপি: কক্ষ প্রত্যবেক্ষকগণ রোল নম্বর এবং ওএমআর (OMR) বৃত্ত ভরাট সঠিকভাবে হয়েছে কিনা তা প্রবেশপত্রের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবেন এবং নির্ধারিত স্থানে অনুস্বাক্ষর করবেন। পরীক্ষা শেষে ওএমআর-এর প্রথম অংশ সাবধানে ছিঁড়ে আলাদা করতে হবে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী) পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নিয়ম:
  • বোর্ডের পূর্বানুমতিক্রমে প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শ্রুতিলেখক (Scribe) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
  • শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা থাকবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post