আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফেরাত আয়োজন করে ২০০৩ সালের এসএসসি ব্যাচ।



ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফেরাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফেরাত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ২০০৩ সালের এসএসসি ও ২০০৫ সালের এইচএসসি ব্যাচের  শিক্ষার্থীরা। এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও  শিক্ষকবৃন্দ কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়ার আয়োজন করে। মৃত ও বিদায়ী শিক্ষকদের স্মরণে শিক্ষকদের ক্রেস্ট প্রদান করে। 


ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিন্দ্য কুমার সরকার তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, স্কুল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অনেকেই এই কথা বলেন, কিন্তু এটা ঠিক নয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া করে প্রতিবছর অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাচ্ছে । এছাড়া অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারও হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় মনোযোগী ও স্কুলগামী তারা কখনোই শিক্ষকদের অসম্মান করে না এবং ফলশ্রুতিতে তারা সাফল্যের শিকড়ে পৌঁছে যায়। যারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও স্কুলে নিয়মিত আসেনা তারাই শিক্ষকদের অসম্মান করে আর তারা উন্নতির সংস্পর্শে আসতে পারে না। আর এই ধরনের অমনোযোগী শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবাররা প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করে বলে, "প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া হচ্ছে না।" অথচ একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারের কাছ থেকেই প্রথমে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, আদর্শ, সম্মানবোধ ইত্যাদি শেখে। অনেক অভিভাবক বা পরিবার রয়েছেন তারা তাদের সন্তানদের লেখা পড়ার প্রতি উদাসীন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চাই না, তাদের সন্তানরা স্কুলে যায় কিনা সে ব্যাপারেও খোঁজ নেয় না। স্কুল ছুটি না হলেও অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায় অভিভাবকরা মনে করে স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছে স্কুলে ক্লাস হচ্ছে না প্রতিদিন স্কুল ছুটি দিয়ে দিচ্ছে। অথচ একবারও প্রতিষ্ঠানে এসে খোঁজ নিয়ে দেখেনা কোন কারণে ছেলেমেয়েরা/ শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাচ্ছে, স্কুল ছুটির কারণে নাকি তাদের নিজেদের ইচ্ছার কারণে। অনেক শিক্ষার্থী সকালে খাবার না খেয়ে প্রতিষ্ঠানে আসে আর দুপুর হলে বিরতির সময় বাড়ি চলে যায় আর স্কুলে ফিরে আসে না প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ে, আর বৃষ্টির দিন তো কোন শিক্ষার্থীকেই বিরতির পর পাওয়াই যায় না। এমনকি সকালে উপস্থিত হওয়ার খুবই কম থাকে। এলাকাবাসী  মন্তব্য করে বসে যে, বৃষ্টি হলেই ইতনা স্কুল এন্ড কলেজ ছুটি হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরাই যদি প্রতিষ্ঠানে না থাকে তাহলে শিক্ষক কাদের ক্লাস করা হবে? কাদের শিক্ষাদান করাবে? শিক্ষার্থীরা স্কুলগামী না হওয়ায় লেখাপড়া থেকে ঝরে যাচ্ছে পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করছে যার প্রভাব পুরো সমাজ তথা দেশের উপর পড়ছে। 


সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিন্দ্য কুমার সরকার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্জীব কুমার সাহা বিদায়ী সকল শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ করেন। ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে অনেক শিক্ষক বিদায় নিয়েছেন, অনেকে পরলোক গমন করেছেন। সাবেক সহকারি প্রধান শিক্ষক হরিদাস ব্যানার্জির অবদানের কথা তুলে ধরেন। হরিদাস স্যার ১৯৯৫ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সহযোগিতা করেছেন। ১৯৯৫ সালে যখন  কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সহকারি অধ্যাপক অনিন্দ্য সরকার, মোঃ আমিরুল ইসলাম, উত্তর সাহা, সঞ্জীব কুমার সাহা স্যারসহ অনেক শিক্ষকবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন কলেজটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য। প্রতিষ্ঠানটি সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি অনেক বছর পরিচালনা করেছেন। কয়েক বছর আগে বিদায় নেওয়া আতাউর রহমান ফিরোজ স্যারও কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। ফিরোজ স্যারের অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়। আরো অনেক বিদায়ী শিক্ষক রয়েছেন যেমন-আকবর স্যার, সুনীল স্যার, মুকিত স্যার, হাবিবুর স্যার প্রমুখ।








Post a Comment

Previous Post Next Post