এইচএসসি কৃষিশিক্ষা ব্যবহারিক কার্যাবলী।
পরীক্ষণ-০১: লেয়ার মুরগির খামার পরিদর্শন এবং এর ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ
মূল পর্যবেক্ষণ ও বিবরণ:
একটি বাণিজ্যিক লেয়ার মুরগির খামার পরিদর্শন শেষে এর উৎপাদন চক্র, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ এবং স্তরায়ন খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ জানা যায়:
- ডিম উৎপাদন চক্র: লেয়ার মুরগি সাধারণত ৪ মাস ১৫ দিন বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত ডিম উৎপাদন করে। ডিম দেওয়ার সময়কাল শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ প্রায় দুই বছর বয়সে এদেরকে বাজারে বিক্রয় করা হয়।
- ব্যবহৃত ওষুধ ও কার্যকারিতা: (১) রেডলিভার: যকৃৎ বা লিভারকে সুস্থ রাখা। (২) কিডনি সল: রেচন ও কিডনি জনিত সমস্যায় কার্যকরী। (৩) ইমো গ্রো: মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়ানো। (৪) জিংক: শরীরের পশম/পালক পড়া রোধ করা এবং ডিমের সঠিক আকৃতি ও গুণগত মান বজায় রাখা।
- খাদ্য ব্যবস্থাপনা: লেয়ার মুরগির সম্পূর্ণ জীবনচক্রে শারীরিক বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ৩টি স্তরে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য পরিবর্তন করা হয় (ছোট, মাঝারি ও ডিম পাড়ার বয়স)।
পরীক্ষণ-০২: গর্ভবতী গাভী শনাক্তকরণ
মূলতত্ত্ব: গাভী বা বকনা গর্ভবতী হলে এদের দৈহিক ও প্রকৃতিগত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, যার সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গর্ভবতী গাভী সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: একটি সম্ভাব্য গর্ভবতী গাভী, হাতমোজা (হ্যান্ড গ্লাভস), জীবাণুনাশক তরল ও তুলা, খাতা ও কলম।কাজের ধাপসমূহ:
- সর্বপ্রথম গাভীকে শান্তভাবে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপদ উপায়ে দাঁড় করিয়ে নিতে হবে।
- গাভীর ওলানের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় বা ফোলা কি না তা নিবিড়ভাবে লক্ষ করতে হবে।
- ওলানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুগ্ধ ধমনীটি স্পষ্ট এবং মোটা কি না তা পর্যবেক্ষণ করা।
- ওলানের বাঁট ধরে হালকা টান বা চাপ দিলে ফেনার মতো আঠালো কোনো পদার্থ বা কষ বের হয় কি না তা দেখা।
- মলদ্বার ও যোনিপথ স্বাভাবিকের চেয়ে ফোলা, লালচে এবং নরম কি না তা পরীক্ষা করা।
- হাঁটার সময় গাভীর পেছনের দুই পায়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কি না তা লক্ষ করা।
পরীক্ষণ-০৩: গলদা ও বাগদা চিংড়ি শনাক্তকরণ
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ:
নمرة (ক): গলদা চিংড়ি
- গায়ের রঙ সাধারণত হালকা নীল থেকে হালকা সবুজ আভাযুক্ত হয়ে থাকে।
- এর দ্বিতীয় চলনপদটি আকারে বেশ বড়, শক্ত এবং কালচে নীল রঙের সাঁড়াশির মতো হয়।
- রস্ট্রামের উপরের দিকে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮-১৪টি স্পষ্ট দাঁত থাকে।
- রস্ট্রামটি সামান্য বাঁকানো এবং ক্যারাপেসের দ্বিতীয় খণ্ডটি নিচের দিকে প্রসারিত থাকে।
- গলদার পোনার খোলসে ৪-৫টি কালচে অনুভূমিক দাগ দেখা যায়।
নমুনা (খ): বাগদা চিংড়ি
- গায়ের রঙ সাধারণত হালকা বাদামি থেকে গাঢ় সবুজ বা ধূসর হয়ে থাকে।
- এদের দেহ এবং মাথার গঠন তুলনামূলকভাবে বেশ বড় ও চওড়া হয়।
- পিঠের খোলসের ওপর বাঘের মতো কালো ও হলদেটে রঙের আড়াআড়ি ডোরাকাটা দাগ বা ব্যান্ড থাকে।
- এদের রস্ট্রামটি তলোয়ারের মতো সোজা ও ধারালো হয় এবং এতে স্পষ্ট দাঁত থাকে।
- এরা মূলত লোনা পানির চিংড়ি এবং এদের দ্বিতীয় চলনপদটি গলদার মতো বড় হয় না।
Post a Comment