দশম অধ্যায় - অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
১. নির্দেশক বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যেসব পদার্থ নিজেদের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল না ক্ষার বা কোনোটিই নয় তা নির্দেশ করে, তাদেরকে নির্দেশক বলে। লিটমাস কাগজের মতো মিথাইল অরেঞ্জ, ফেনোফথ্যালিন মিথাইল রেড এগুলো নানা রকমের নির্দেশক যা একটি অজানা পদার্থ এসিড, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা বুঝতে সাহায্য করে।
২. ক্ষারক কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ক্ষারক হলো সেই সকল রাসায়নিক পদার্থ যাদের মধ্যে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং যারা পানিতে হাইড্রোক্সিল আয়ন তৈরি করে। তবে কিছু কিছু রাসায়নিক পদার্থ, যেমন- ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন, অ্যামোনিয়া, যাদের মধ্যে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন দু'ধরনের পরমাণু নেই, কিন্তু এরা পানিতে OH- তৈরি করে, এদেরকে ও ক্ষারক বলা হয়।
৩. 'সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক ক্ষার নয়' ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড। কিছু কিছু ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় আবার কিছু কিছু ক্ষারক দ্রবীভূত হয় না। যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে ক্ষার বলে। ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। NA NaOH, Ca(OH)2, NH4OH এগুলো ক্ষার। অন্যদিকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)3] পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
৪। এন্টাসিড ঔষধ কী?
উত্তর: এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড, যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাসপেনশন মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া নামেই অধিক পরিচিত। কখনো কখনোএন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও থাকে।
৫. এসিড ও ক্ষারকের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর : এসিড ও ক্ষারকের মধ্যে পার্থক্য হলো-
এসিড
১. এসিড পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে।
২. এসিড টক স্বাদ যুক্ত।
৩. এসিড খাওয়া যায়।
৪. উদাহরণ: ভিনেগার বা এসিটিক এসিড , অক্সালিক এসিড ইত্যাদি।
ক্ষারক
১. ক্ষার পানিতে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) প্রদান করে। ২. ক্ষারক কটু স্বাদ যুক্ত।
৩.. ক্ষারক খাওয়া যায় না।
৪. উদাহরণ: NaOH, Ca(OH)2, Al(OH)3 ইত্যাদি।
দ্বাদশ অধ্যায়
১। গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য লেখ?
গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য হলোঃ
গ্রহ
যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তাদেরকে গ্রহ বলে।
গ্রহ উপগ্রহ অপেক্ষা অতি বৃহৎ।
সূর্যের আটটি গ্রহ রয়েছে।
গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
উপগ্রহ
যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে তাদের উপগ্রহ বলে।
উপগ্রহ গ্রহের তুলনায় অনেক ছোট।
পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ আছে।
উপগ্রহ গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
২। গ্যালাক্সি কী? মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ কী?
গ্যালাক্সি: যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা বেশি ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল।
ছায়াপথ: আমাদের বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে। এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র।
৩। মহাবিশ্বের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে?
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্তে যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব'। বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্বে মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফুর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোতির্বিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
৪। কৃত্রিম উপগ্রহের গুরুত্ব লেখ।
কৃত্রিম উপগ্রহের গুরুত্ব হলো:
কৃত্রিম উপগ্রহ নানা রকম কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যবহার অনুসারে এদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন: যোগাযোগ উপগ্রহ, আবহাওয়া উপগ্রহ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ সামরিক বা গোয়েন্দা উপগ্রহ, নৌপরিবহন উপগ্রহ, জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক উপগ্রহ ইত্যাদি।
Post a Comment