আজকের শিক্ষা ডট কম (ajkershikkha.com)
--:--:--

সর্বশেষ

২০২৬ সালের এইচএসসি কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর।

২০২৬ সালের এইচএসসি কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্ন ও প্রশ্নের নমুনা উত্তর। কৃষিশিক্ষা (সৃজনশীল) দ্বিতীয় পত্র - ২০২৬

কৃষিশিক্ষা (সৃজনশীল) - দ্বিতীয় পত্র

২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী

বিষয় কোড: ২৪০ সময়: ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পূর্ণমান: ৫০
দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রদত্ত উদ্দীপকগুলো মনোযোগসহকারে পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দাও। যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
১ নম্বর প্রশ্ন
১৯৭৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এক ধরনের মাছ আমদানি করা হয়। মাছটি বিপদের সময় পোনাগুলোকে মুখের মধ্যে রেখে সুরক্ষা দেয় এবং বিপদ কেটে গেলে পুনরায় ছেড়ে দেয়। এটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ হওয়ায় বর্তমানে পুকুরে ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে এবং বাজারে এর চাহিদা অনেক। তবে চাষকালীন সময়ে পুকুরের তলদেশে অতিরিক্ত জৈব পদার্থ জমে গেলে মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস অঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধে, পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ হয় এবং মাছ মারা যায়।
  • (ক) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন কী?
  • (খ) মাছ চাষে পুকুরের জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ জরুরি কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছের রোগটি দমনে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ কর।
২ নম্বর প্রশ্ন
নিচের ছকটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চিংড়ির প্রকারভেদ
A. এরা স্বাদু পানিতে বাস করে এবং এদের দেহের রং হালকা নীল ও সবুজ। B. এরা লোনা পানিতে বাস করে এবং এদের দেহের রং হালকা বাদামি থেকে সবুজ।
  • (ক) নিরাপদ মাছ কী?
  • (খ) মাছ পচে কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) ধান ক্ষেতে ছকের 'A' চিহ্নিত চিংড়ি চাষের সুবিধা ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছকের 'B' চিহ্নিত চিংড়ি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
৩ নম্বর প্রশ্ন
বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান শিল্প পোল্ট্রি শিল্প। বর্তমানে পোল্ট্রি খামার শিল্প হিসেবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্থাপিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাচ্চার অভাব, দারিদ্র্যসহ কিছু সমস্যা মাঝে মাঝে এ শিল্পের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব বাধা সত্ত্বেও দেশে এ শিল্পের উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।
  • (ক) স্কোয়াব কী?
  • (খ) কোয়েল পালন লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকের শিল্পটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) বাংলাদেশে "পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে"— উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
৪ নম্বর প্রশ্ন
একজন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য একটি খামার স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। খামার পরিকল্পনার সময় তিনি স্থান নির্বাচনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। পূর্বে তার একটি খামারে কুঁচে মুরগির সাহায্যে ডিম ফোটানো হলেও বর্তমানে আধুনিক ব্যবস্থায় বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ডিম ফুটিয়ে অধিক সংখ্যক বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে।
  • (ক) রাণীক্ষেত কী?
  • (খ) ডিম অনুর্বর হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকের খামারটি পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয়গুলো ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পূর্বে ও বর্তমানে ডিম ফোটানো পদ্ধতিদ্বয়ের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
৫ নম্বর প্রশ্ন
কামাল একটি উন্নত জাতের সাদা-কালো রং মেশানো অধিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী পালন করেন। গাভীটির জাতের উৎপত্তি হল্যান্ডের ফ্রিজল্যান্ড প্রদেশে। গাভীটির অধিক পরিমাণে দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও সম্প্রতি কামাল লক্ষ করছেন তার গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কখনো কম আবার কখনো বেশি হচ্ছে। এ বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। কর্মকর্তা তাকে জানান যে, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ও ব্যবস্থাপনার তারতম্যের কারণে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কম-বেশি হতে পারে।
  • (ক) কিড কী?
  • (খ) পশুপালন গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত গাভীর জাতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
৬ নম্বর প্রশ্ন
আজাদ একজন দুগ্ধ খামারি। তিনি শুষ্ক মৌসুমে বাড়ির পাশে উঁচু জায়গায় মাটির নিচে গর্ত করে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাঁচা সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে রাখেন। পরবর্তীতে বর্ষা মৌসুমে এ সংরক্ষিত ঘাস তিনি কাঁচা সবুজ ঘাসের বিকল্প হিসেবে দুগ্ধবতী গাভীকে খাওয়ান। এতে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি লক্ষ করলেন খামারে দুটি গাভীর মুখের ভিতরে ও ক্ষুরের মাঝখানে 'ঘা' রয়েছে। এতে গাভী দুটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে তার খামারে দুধ উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
  • (ক) ল্যাক্টোমিটার কী?
  • (খ) ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকে আজাদের ঘাস সংরক্ষণের বিশেষ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) উদ্দীপকের রোগটি দমনে করণীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ কর।
৭ নম্বর প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির কৃষিশিক্ষা ক্লাসে জনৈক শিক্ষক 'X' বনের প্রকারভেদ আলোচনা করার সময় নিম্নোক্ত দুধরনের প্রাকৃতিক বনের বিশদ বর্ণনা করেন:
বন-১: চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও সিলেটে এ ধরনের বন রয়েছে। এ বনে জুম চাষ ও চা চাষ করা হয়।
বন-২: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনায় এ ধরনের বন রয়েছে। এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী ও গোলপাতা।
  • (ক) কৃষিমেলা কী?
  • (খ) প্রুনিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে উদ্দীপকের বন-২ কী ধরনের ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) উদ্দীপকের বন-১ ও বন-২ এর মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
৮ নম্বর প্রশ্ন
তিলকপুর গ্রামের অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র হওয়ায় তারা আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম্য মহাজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ করে ফসল উৎপাদন করে। কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত কারিগরি জ্ঞানের অভাব ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি না থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। আবার সঠিকভাবে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে অসুবিধা হয়। এজন্য কৃষি কর্মকর্তার কাছে পরামর্শের জন্য গেলে কর্মকর্তা তাদের একটি সমিতি গঠনের পরামর্শ দেন, যার মূলনীতি হলো একতা, সাম্য, সততা ও গণতন্ত্র।
  • (ক) শস্য পর্যায় কী?
  • (খ) কৃষি ঋণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
  • (গ) উদ্দীপকে কৃষকের ঋণপ্রাপ্তির উৎস কৃষি ঋণের কোন উৎসকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
  • (ঘ) কৃষি উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমিতির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।



পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে কয়েকটি প্রশ্নের নমুনা উত্তর দেওয়া হল।

২ নং প্রশ্নের উত্তর: (ক)

যে সকল মাছ ফরমালিনমুক্ত এবং ভোক্তার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতিসাধন করে না তাকে নিরাপদ মাছ বলে।

২ নং প্রশ্নের উত্তর: (খ)

পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে মাছ পচে যায়। মাছ ধরার ৬-৭ ঘণ্টা পর পচন ক্রিয়া শুরু হয়। তাই মাছকে পর্যাপ্ত সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। মাছ ধরার পর তার দেহের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানি থেকে বের হওয়ার পর মাছ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এর ফলে মাছে আরও ক্ষতি হয় এবং মাছ পচতে শুরু করে।

২ নং প্রশ্নের উত্তর: (গ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছক 'A' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো গলদা চিংড়ি, যা ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে চাষ হয়ে থাকে। ধান ক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষের সুবিধাসমূহ:

  • খরচ কম হয়।
  • বাইরে থেকে খাদ্য প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।
  • ধানের উৎপাদন ভালো হয়।
  • ধান ক্ষেতে সারের পরিমাণ কম লাগে।
  • ধানের ক্ষতিকারক পোকাগুলো খেয়ে ফেলে।
  • অল্প জমির প্রয়োজন হয়।
  • অধিক উৎপাদন করা যায়।
  • চিংড়ি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ধানের ফলন বৃদ্ধি পায়।
  • স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত চিংড়ি হলো গলদা চিংড়ি, যা ধান ক্ষেতে চাষ উপযোগী।

২ নং প্রশ্নের উত্তর: (ঘ)

উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো বাগদা চিংড়ি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাগদা চিংড়ির অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের চিংড়ি চাষের ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হতে পেরেছে এবং চিংড়ি চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহের পানি লবণাক্ত, বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা। এ অঞ্চলের পানিতে লবণ থাকায় তা বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য উপযুক্ত। তাছাড়া বাগদা চিংড়ি লবণাক্ত পানিতে ভালো হয়। বাগদা চিংড়ি চাষ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে। বাগদা চিংড়ি আমাদের দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। চিংড়ি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। প্রতিবছর প্রায় ১০০০ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে, যা রপ্তানি করার মাধ্যমে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রায় ৩২.৬ বিলিয়ন ডলার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত B চিহ্নিত চিংড়িটি হলো বাগদা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাগদা চিংড়ি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এ চিংড়ি চাষের ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর: (ক)

দুগ্ধের আপেক্ষিক ঘনত্ব ও গুরুত্ব পরিমাপের যন্ত্র হলো ল্যাক্টোমিটার।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর: (খ)

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য:

  • বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়।
  • মাংস উৎপাদন ক্ষমতা বেশি।
  • গায়ের রং কালো।
  • কান ছোট, লম্বা ও চ্যাপ্টা।
  • ত্বক মসৃণ।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর: (গ)

উদ্দীপকে আজাদের কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের পদ্ধতিটি হলো সাইলেজ, যা শুষ্ক মৌসুমে গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়। সাইলেজের বিশেষ প্রক্রিয়াটি হলো:

  • ফুল আসার আগে ঘাস কাটতে হয়।
  • ঘাসগুলোকে পরিষ্কার করা হয়।
  • শুকিয়ে ঘাসগুলোর আর্দ্রতা ১৫-২০% এ নামিয়ে আনা হয়।
  • মোলাসেস বা চিটাগুড় মেশানো হয়।
  • সংরক্ষণের সময় এক স্তর পর পর এই মোলাসেস মেশানো হয়।
  • গর্তে সংরক্ষণ করা হয়।
  • স্থানটি বা গর্তটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী রাখা হয়।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের পদ্ধতিটি হলো সাইলেজ, যা শুষ্ক মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর: (ঘ)

উদ্দীপকে গাভীর রোগটি হলো ক্ষুরা রোগ। এই রোগ গাভীর ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। ক্ষুরা রোগ গাভীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এ রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিধায় গবাদি পশু ক্ষণিকের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে গাভী মারা যেতে পারে।

ক্ষুরা রোগ দমনের পদক্ষেপসমূহ:

  • আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া।
  • মাছি বসতে না দেওয়া।
  • স্যাঁতসেঁতে জায়গায় না রাখা।
  • সাবধানতা অবলম্বনে অন্যান্য পশু থেকে আলাদা রাখা।
  • প্রতিরোধক টিকা প্রদান করা।
  • গাভীর বিছানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • ঔষধ পানির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করা।
  • গাভীকে পা চাটতে না দেওয়া।
  • মৃত গাভী মাটিতে পুঁতে ফেলা।

পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত গবাদি পশুর রোগটি হলো ক্ষুরা রোগ, যা ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর: (ক)

কৃষি মেলা হলো কৃষকদেরকে সকল প্রকার আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিষয়ক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন করা।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর: (খ)

গাছকে শক্ত, সুন্দর কাঠামো দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রুনিং করা হয়। প্রুনিং করার সময় গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলা হয়, যাতে পরবর্তীতে সুন্দর ও শক্তিশালী কাঠের সৃষ্টি হয়। এর সাহায্যে গাছের ডালপালাগুলো আগের তুলনায় মজবুত হয়ে ওঠে এবং গাছের কাঠামো শক্তিশালী হয়।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর: (গ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত বন-২ হলো ম্যানগ্রোভ বন, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যানগ্রোভ বনের ভূমিকাসমূহ:

  • উপকূলীয় অঞ্চলকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে।
  • ক্ষতিকারক বন্যা মোকাবেলা করে।
  • জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ কমায়।
  • বনে বসবাসরত পশু-পাখিকে রক্ষা করে।
  • ধেয়ে আসা ক্ষতিকর ঝড়গুলো মোকাবিলা করে।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বন-২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭ নং প্রশ্নের উত্তর: (ঘ)

উদ্দীপকে বন-১ হলো পাহাড়ি বন এবং বন-২ হলো ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে। পাহাড়ি বন গড়ে ওঠে রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে। পাহাড়ি বন ও সুন্দরবনের মধ্যে পার্থক্যসমূহ:

পার্থক্য বিষয় পাহাড়ি বন সুন্দরবন
আয়তন এ বনের আয়তন তুলনামূলক কম। এ বনের আয়তন তুলনামূলক বেশি।
বৃক্ষ এ বনের বৃক্ষ মেহগনি, গর্জন ইত্যাদি। এ বনের বৃক্ষ সুন্দরী, কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও গোলপাতা।
অবস্থান এ বন পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠে। এ বন উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠে।
পশু-পাখি এ বনের পশু-পাখি হলো বন্য কপোত, বুলবুলি ইত্যাদি। এ বনের পশু-পাখি হলো বাঘ, হরিণ, কুমির ইত্যাদি।
মাটির প্রকৃতি পাহাড়ি বন কিছুটা অম্লত্ব ও ক্ষারীয় প্রকৃতির। লবণাক্ত মাটির বন।

Post a Comment

Previous Post Next Post